প্রথম স্বামী দেবেশ রায়চৌধুরীর সঙ্গে বিচ্ছেদ! দ্বিতীয়বার প্রবীণ সম্পাদকে বিয়ে! সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে গার্গী রায়চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনে!

বাংলা বিনোদন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র গার্গী রায়চৌধুরী (Gargee RoyChowdhury)। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। তবে কেবল পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও তিনি এক প্রবল ব্যক্তিত্বময়ী নারী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এক ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার অভিনয় জীবনের শুরু থেকে ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।
গার্গী রায়চৌধুরীর অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল থিয়েটারের মঞ্চে। ‘উত্তরণ’ এবং ‘বহুরূপী’-র মতো প্রথিতযশা নাট্যদলের সাথে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘ সময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি রেডিওতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। টেলিভিশন ধারাবাহিকে একসময় নিয়মিত মুখ থাকলেও, গার্গী বরাবরই বেছে বেছে কাজ করতে পছন্দ করেন। বর্তমানে তিনি ছোট পর্দা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বড় পর্দাতেই বেশি মনোনিবেশ করেছেন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছ হামি, বিটনুন, তিনয়ারি কথা, শেষ পাতা, মহানন্দা, জ্যেষ্ঠপুত্র এবং ময়ূরাক্ষী। ২০২২ সালে তাকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ‘হামি টু’ ছবিতে। অভিনেত্রীর পেশাদার জীবন যতটা সফল, তার ব্যক্তিগত জীবন ততটাই চর্চিত। গার্গী রায়চৌধুরীর জীবনে দুবার বিয়ের সানাই বেজেছে এবং দুটি ক্ষেত্রেই তার জীবনসঙ্গীরা ছিলেন তার থেকে বয়সে অনেকটা বড়।
থিয়েটারে কাজ করার সময় অভিনেতা দেবেশ রায়চৌধুরীর সাথে গার্গীর আলাপ হয়। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেম। বয়সের অনেকটা ফারাক থাকা সত্ত্বেও তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছালে শেষ পর্যন্ত তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। প্রথম বিচ্ছেদের পর গার্গী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আজকাল পত্রিকার সম্পাদক অশোক দাসগুপ্তকে। অশোক বাবু ছিলেন বয়সে বেশ প্রবীণ। এই বিয়ে নিয়ে সেই সময় টলিপাড়ায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গার্গী বরাবরই নিজের শর্তে বাঁচতে পছন্দ করেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বয়সে বড় পুরুষদেরই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেশি পছন্দ করেন।
আরও পড়ুনঃ শহর ছাড়লেন দেবলীনা! ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে হঠাৎ কেন কলকাতা থেকে দূরে গায়িকা?
বর্তমানে গার্গী রায়চৌধুরী থিয়েটারের মঞ্চ এবং বড় পর্দায় সমানভাবে সক্রিয়। নিজের নীতিতে অটল থেকে তিনি যেভাবে ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবন সামলেছেন, তা অনেক অভিনেত্রীর কাছেই অনুপ্রেরণার। বিতর্ককে দূরে সরিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দর্শক সবসময় ভালো অভিনয়ের কদর করে।

