টলিউডের জনপ্রিয় শিশু শিল্পী থেকে পিএইচডি! কোথায় আছেন ‘আগমন’ খ্যাত সেই ছোট্ট স্বর্ণেন্দু? বর্তমানে কেমন দেখতে হয়েছে তাকে?

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা সিনেমা জগতে যে কজন শিশু শিল্পী দর্শকদের মন জয় করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাস্টার স্বর্ণেন্দু ওরফে স্বর্ণেন্দু রায় (Swarnendu Roy)। ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিখ্যাত পারিবারিক চলচ্চিত্র ‘আগমন’-এ অভিনেতা তাপস পালের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এই ছবিতে তাঁর মিষ্টি চেহারা এবং আবেগঘন অভিনয় সে সময় সিনেমা হলের দর্শকদের চোখের কোণে জল এনে দিয়েছিল।
‘আগমন’ সিনেমার বিপুল সফলতার পর স্বর্ণেন্দুর জনপ্রিয়তা রাতারাতি বেড়ে যায়। এরপর তিনি টলিউডের আরও বেশ কিছু বড় ও সফল প্রজেক্টে ডাক পান। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত ‘আক্রোশ’, ‘মঙ্গলদীপ’ এবং ‘বিদ্রোহী’-র মতো সুপারহিট কমার্শিয়াল সিনেমাগুলোতে শিশু শিল্পী হিসেবে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী, রঞ্জিত মল্লিক বা তাপস পালের মতো মহাতারকাদের সঙ্গে সমান তালে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন এই ছোট্ট অভিনেতা।
শৈশবে বিপুল জনপ্রিয়তা এবং চমৎকার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণেন্দু সিনেমা জগতের এই গ্ল্যামারাস জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখেননি। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তাই একটা বয়সের পর যখন পড়াশোনার চাপ বাড়তে শুরু করে, তখন তিনি লাইমলাইটের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রূপোলী পর্দার চকমকে দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে তিনি সম্পূর্ণ মন দেন নিজের শিক্ষাজীবনে।
সিনেমার জগত ছেড়ে আসার পর স্বর্ণেন্দুর শিক্ষাগত যোগ্যতা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগানোর মতো। স্কুল ও কলেজের পাঠ শেষ করে তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (রাসায়নিক প্রকৌশল) নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ এতটাই গভীর ছিল যে, ২০০৬ সালে তিনি নিজের পিএইচডি ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। টলিউডের সেই মিষ্টি চাইল্ড আর্টিস্ট যে পরবর্তীতে একজন গবেষক ও বিজ্ঞানী হয়ে উঠবেন, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি তালিকায় বড় চমক! শীর্ষে নতুন জুটি! হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথম পাঁচ দখল করল কারা? দেখে নিন এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা!
বর্তমানে চলচ্চিত্র বা গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে স্বর্ণেন্দু রায়ের আর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি এখন বহুজাতিক করপোরেট সংস্থায় অত্যন্ত উচ্চপদে কর্মরত। বর্তমানের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ব্যাঙ্গালোরে ‘শেল ইন্ডিয়া’ নামক একটি স্বনামধন্য সংস্থায় টেকনিক্যাল সেফটি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। ছোটবেলার সেই চিলড্রেন স্টারের তকমা পেছনে ফেলে আজ তিনি করপোরেট দুনিয়ার এক সফল ব্যক্তিত্ব, তবে তাঁর সেই পুরনো অভিনয় আজও বাংলা সিনেমা প্রেমীদের কাছে এক নস্টালজিক স্মৃতি।

