‘আমায় ডাকলে তবে তো আমি আসবো!’ ‘পুরনো শিল্পীদের কি কোনও অবদান নেই?’ ‘ইন্ডাস্ট্রিতে নিমন্ত্রণই পাই না!’ পুরনোদের গুরুত্ব ভুলতে বসেছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি! ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী দেবিকা মুখার্জী!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল ও গুণী অভিনেত্রী দেবিকা মুখার্জী (Devika Mukherjee)। আশির ও নব্বইয়ের দশকে বহু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। প্রখ্যাত সব পরিচালকদের সাথে কাজ করা এই অভিনেত্রী নিজের অভিনয় দক্ষতায় বাংলা সিনেমায় এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির কাজের বাইরে থাকা এবং বর্তমানের বিভিন্ন আয়োজন থেকে দূরে থাকা নিয়ে তাঁর মনে জমে রয়েছে কিছু অভিমান।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ শিল্পীদের প্রতি অবহেলা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিনিয়ত নানা অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট আয়োজিত হলেও সেখানে প্রবীণ শিল্পীদের আর সেভাবে মনে রাখা হয় না। অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এসব অনুষ্ঠানে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না, কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় নিমন্ত্রণটুকুও তিনি পান না।

বর্তমান প্রজন্মের তারকা ও পরিচালকদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি কিংবা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ তোলেন। দেবিকা মুখার্জীর মতে, আজকাল সবাই নিজেদের কাজ ও জগত নিয়ে এতটা ব্যস্ত থাকেন যে প্রবীণদের কথা হয়তো আলাদা করে ভাবার সময় পান না। কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হওয়া বা যোগাযোগ হওয়ার সুযোগটুকু তৈরি হতে হলেও ন্যূনতম আমন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে।

অভিনেত্রী সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিষয়টি কোনো বড় ধরনের স্বার্থপরতা না হলেও প্রবীণদের সম্মান জানানোর মানসিকতা থাকা উচিত। প্রবীণ শিল্পীরা যাঁরা জীবনের বড় একটা সময় ইন্ডাস্ট্রিকে সফল ছবি উপহার দিয়েছেন, তাঁদের অন্তত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডেকে সম্মানিত করা একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক চিন্তা। এই সামান্য খেয়াল রাখাটুকু ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণদের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

আরও পড়ুনঃ ‘স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানই সব…!’ ‘সতিনের ছেলেকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের সন্তান…!’ কেন কখনো নিজের সন্তান নেওয়ার কথা ভাবেননি লাবণী সরকার? আনলেন প্রবীণ অভিনেত্রী!

সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি তুলে ধরেন যে, নিমন্ত্রণ ছাড়া হুট করে কোথাও চলে যাওয়া কোনো শিল্পীর পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই ক্ষোভ ও অভিমানের কথা বলতে পেরে তিনি মন কিছুটা হালকা করেছেন। প্রবীণ শিল্পীদের কাজের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে যেন নতুন প্রজন্ম ভুলে না যায় এবং ইন্ডাস্ট্রিতে যেন তাঁদের উপযুক্ত সম্মান ও জায়গা বজায় থাকে এই বার্তাই উঠে এসেছে তাঁর কথায়।

Back to top button