‘অভিনেত্রীদের সবসময় বৈভব প্রকাশ করতে হয়…’ মফস্বলের থিয়েটার থেকে ঝলমলে টলিউড! মোটা অংকের ঋণ শোধ করতে গ্ল্যামার দুনিয়ায় প্রবেশ! ডুবতে বসা সংসারের হাল ধরেছেন অভিনেত্রী অনুষ্কা চক্রবর্তী!

রূপোলি পর্দার ঝা-চকচকে আলো, লাল কার্পেট কিংবা গ্ল্যামারাস লাইফস্টাইলের আড়ালে যে কতখানি কঠিন বাস্তব লুকিয়ে থাকে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন টলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা চক্রবর্তী (Anushka Chakraborty)। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় ও কঠিন লড়াইয়ের গল্প ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী এবং তাঁর পরিবার।
আজ অনুষ্কাকে পর্দার অন্যতম সফল মুখ হিসেবে দেখলেও, এই সাফল্যের পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। একসময় চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁর পরিবারকে। অভিনেত্রীর বাবা জানান, করোনা মহামারীর সময়ে তাঁর ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। লকডাউন ও ব্যবসার ক্ষতির জেরে পরিবারে পাহাড়প্রমাণ লোন বা ঋণের বোঝা তৈরি হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই কঠিনতম সময়ে মাত্র ২১-২২ বছর বয়সেই সংসারের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অনুষ্কা। দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে বাবার সেই সমস্ত লোন বা দেনা একা হাতেই রিকভারি করেন তিনি। আজ বাবা-মায়ের চোখে অনুষ্কাই তাঁদের ঘরের সন্তান, ঘরের মূল অভিভাবক।
আগরপাড়ার মেয়ে অনুষ্কার অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিল থিয়েটারের মঞ্চ থেকে। তখন থেকেই তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন মা-বাবা। মেদিনীপুর, সুন্দরবন, বাঁকুড়া বা বীরভূমের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় যখন রাত জেগে অনুষ্কার নাটকের শো চলত, শীতের রাতেও অডিয়েন্সে বসে মেয়ের অভিনয় দেখতেন মা। আর ফেরার পথে গাড়িতে চলত অভিনয়ের ভুলত্রুটি নিয়ে কড়া সমালোচনা। অন্যদিকে, গভীর রাতে মেয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত উদ্বেগে দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন বাবা।
পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী অনুষ্কা যখন ক্লাস টুয়েলভে পড়েন, তখন প্রথমবার বাংলাদেশের বিখ্যাত পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিমের একটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। তবে অভিনয়ের প্রতি আসল ভালোবাসা এবং ক্যামেরার পেছনের দুনিয়াকে চেনার পাঠ তিনি পেয়েছিলেন প্রয়াত পরিচালক অরুণ রায়ের হাত ধরে। অরুণ রায়ের সান্নিধ্যই অনুষ্কাকে একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।
সাক্ষাৎকারে গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির একটি চিরন্তন সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন অনুষ্কা। তিনি জানান, অনির্বাণ ভট্টাচার্য কিংবা ঋত্বিক চক্রবর্তীদের মতো সাধারণ লাইফস্টাইল লিড করা অভিনেতাদের আইডল মেনে তিনি বড় হয়েছিলেন। তাই টলিউডের মূল ধারার ইন্ডাস্ট্রিতে এসে যখন দেখলেন অভিনেত্রীদের সবসময় সাজগোজ করে, গ্ল্যামারাস ভাবে একটা ‘বৈভব প্রকাশ’ করে চলতে হয়, নয়তো লোকে ফ্যাশন সেন্স নিয়ে কথা বলে তখন শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি। এই গ্ল্যামারের চক্করে মাঝখানে কিছুটা আন্ডার-কনফিডেন্টও বোধ করতেন। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই দ্বিধা কাটিয়ে উঠেছেন অনুষ্কা। এখন কোনো মেকআপ বা হেয়ার স্টাইলিং ছাড়াও সাধারণ বাড়ির পোশাকে যেকোনো প্রিমিয়ারে পৌঁছে যেতে তাঁর বিন্দুমাত্র দ্বিধা হয় না।
আরও পড়ুনঃ শাড়ি ছেড়ে ফের টি-শার্টে সায়নী ঘোষ! মমতার ছায়া মুছে আবারও পুরনো অবতার! কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতন সাজতেন অভিনেত্রী? জানালেন আসল কারণ!
সবশেষে অভিনেত্রী জানান, তাঁর জীবনের পুরো জার্নিটাই অত্যন্ত আনপ্ল্যান্ড এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী চলছে। আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পায়ের মাটি আরও শক্ত করে অভিনয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন লড়াকু এই অভিনেত্রী।

