‘মাঝরাতে ফোন করে খোঁজ নেয়!’ ‘সহজই এখন আমার গার্জেন!’ মাকে সন্তানের মতন আগলে রেখেছে ছোট্ট সহজ! মায়ের দুঃখ ঘোচাতে সদা তৎপর সহজ! মা-ছেলের এমন মিষ্টি সম্পর্কে মুগ্ধ দর্শক!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar) এবং তাঁর ছেলে সহজের সম্পর্কের সমীকরণ সবসময়ই নেটিজেনদের ভীষণ প্রিয়। তবে বর্তমান সময়ে এই মা-ছেলের সম্পর্কের বাঁধন আরও অনেক বেশি মজবুত ও আবেগময় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের পর, জীবনের এই কঠিনতম মুহূর্তে একে অপরের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে মা ও ছেলে।

প্রিয়াঙ্কা ও রাহুলের জীবনের গল্পটা শুরু হয়েছিল তাঁদের প্রথম ব্লকবাস্টার ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেট থেকে। বাস্তব জীবনে সাতপাকে বাঁধা পড়ার পর ২০১৩ সালে তাঁদের জীবনে আসে একমাত্র সন্তান সহজ। মাঝে কিছু বছর তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হলেও, একমাত্র ছেলে সহজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে গত বছরগুলিতে সমস্ত অভিমান ভুলে তাঁরা আবার এক হয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাহুল চিরতরে চলে যান। সেরা বন্ধু ও সহযোদ্ধাকে হারিয়ে প্রিয়াঙ্কার জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে এখন তাঁর পাশে একমাত্র ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সহজ।

আজকের দিনে সহজ আর কেবল ছোট ছেলেটি নেই, সে যেন প্রিয়াঙ্কার একাধারে বন্ধু এবং অভিভাবক হয়ে উঠছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কার সহ-অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় জানান, স্ক্রিপ্ট রিডিং বা শুটিংয়ের কাজে একটু রাত হলেই তেরো বছরের সহজ নিয়ম করে ফোন করে মায়ের খোঁজ নেয়। সে জানতে চায় মা কোথায় আছে, কখন বাড়ি ফিরবে। বিক্রম মজা করে বলেছিলেন, “সহজকে দেখে মনে হয় ও প্রিয়াঙ্কার ছেলে নয়, বরং প্রিয়াঙ্কার বাবা বা অভিভাবক হয়ে উঠছে।” প্রিয়াঙ্কাও হেসে সহমত হয়ে জানান, সহজ ওর বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত এবং সত্যিই ও ধীরে ধীরে মায়ের ‘গার্জেন’ হয়ে উঠছে।

সহজের এই বড় হয়ে ওঠার ধরন নিয়ে প্রিয়াঙ্কার নিজস্ব এক সুন্দর ভাবনা রয়েছে।তিনি চান সহজ যেন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো লোকলজ্জা বা সমাজের জাজমেন্টের ভয় না পায়। সমাজ বা বাকি মানুষ কী ভাবল, সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেলে সহজ যেন নিজের শর্তে, নিজের মতো করে বাঁচতে পারে। প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, নিজের মনের দিক থেকে স্বচ্ছ থেকে সমাজের সমস্ত গণ্ডি পেরিয়ে স্বাধীনভাবে চলাই হলো আসল ‘তারকাটা’ স্বভাব। আর তিনি চান তাঁর ছেলেও যেন বড় হয়ে ঠিক এই রকমই স্পষ্টবাদী আর নিজের মতো স্বাধীনচেতা বা ‘তারকাটা’ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে ফেডারেশন অফিসে পুলিশের হানা! কোন গোপন নথির তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ? তদন্তে নতুন মোড়!

কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মা ও ছেলে যখনই একসঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর সুযোগ পান, তাঁরা চারপাশের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ভুলে যান। ঘুরতে যাওয়া বা একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোতে তাঁরা কেবল নিজেদের আনন্দের দিকেই ফোকাস করেন। বাবার স্মৃতি বুকে নিয়ে সহজ যেমন নিজেকে পড়াশোনা আর স্কুলের মধ্যে ব্যস্ত রেখে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে, ঠিক তেমনই প্রিয়াঙ্কাও সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে ছেলের হাত ধরে আবার নতুন করে কাজে ফিরছেন। একে অপরকে আগলে রাখার এই মিষ্টি ও পরিণত সমীকরণই আজ প্রিয়াঙ্কা আর সহজের জীবনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।

Back to top button