‘দেবকে আর রাজ করতে দেব না!, ‘সবকিছুর বদলা নেব!’ একদিকে রুদ্রনীল অন্যদিকে দেব! টলিউডের দুই তারকার সম্মুখ সমর! রাজনীতির লড়াই এবার স্টুডিও পাড়ায়!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের রেশ কাটতে না কাটতেই টলিউড (Tollywood) ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তথা নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh) টলিউডের অন্যতম সুপারস্টার ও তৃণমূল সাংসদ দেবের (Dev Adhikari) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। টলিউডে ‘মাফিয়া রাজ’ এবং দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে রুদ্রনীল সাফ জানিয়েছেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিপত্য বিস্তার করে কাউকে ‘রাজ’ করতে দেওয়া হবে না। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দুই তারকার ভক্তদের মধ্যে ভার্চুয়াল যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।
রুদ্রনীল ঘোষ টলিউডের একজন অত্যন্ত দক্ষ অভিনেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি ‘ভিঞ্চি দা’ বা ‘চ্যাপলিন’-এর মতো ছবিতে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি দিয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল এবং বর্তমানে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে শিবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন যে, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে তাকে দিনের পর দিন কোণঠাসা করা হয়েছে। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজ চক্রবর্তীও রাজনৈতিক চাপের মুখে তাকে নিজের প্রজেক্টে নিতে পারেননি বলে তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, দীপক অধিকারী ওরফে দেব বর্তমানে টলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেতা এবং প্রযোজক। ২০০৬ সালে ‘অগ্নিশপথ’ দিয়ে শুরু করে আজ তিনি টলিউডের সবথেকে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া সুপারস্টারদের একজন। তার প্রযোজিত ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘গোলন্দাজ’ বা সাম্প্রতিক ‘খাদান’ ও ‘ধূমকেতু’র মতো ছবিগুলো বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ হিসেবেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে রুদ্রনীলের অভিযোগের তিরে এবার বিদ্ধ হতে হয়েছে তাকে। রুদ্রনীল সরাসরি দেবের বিরুদ্ধে গরু পাচারের মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই ‘নোংরামি’ তিনি প্রকাশ্যে নিয়ে আসবেন।
ভিডিওটিতে রুদ্রনীল তার পুরনো বন্ধু রাজ চক্রবর্তীকেও রেয়াত করেননি। রাজ চক্রবর্তী বর্তমানে টলিউডের অন্যতম সফল বাণিজ্যিক পরিচালক এবং তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য। রুদ্রনীল মনে করেন, রাজের মতো গুণী মানুষের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আড়ালে থাকা উচিত হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ পাওয়া এখন প্রতিভার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর নির্ভর করে। এই ‘ব্যান’ করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবং টলিউডে একটি সুস্থ কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘এই টলিউডকে হলিউডের থেকেও এগিয়ে নিয়ে যাব…’ টালিগঞ্জে পালাবদল! জয়ের পর টলিউড নিয়ে বড় বার্তা পাপিয়ার!
বিশেষজ্ঞদের মতে, টলিউডের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতিফলন। দেব এবং রুদ্রনীল—উভয়েই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হলেও তাদের রাজনৈতিক আদর্শ আজ মেরুকরণের শিকার। একদিকে যেমন দেবের ভক্তরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন, অন্যদিকে রুদ্রনীল অনুগামীরা মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রিতে সত্য প্রকাশ হওয়া জরুরি। এই বাকযুদ্ধ ভবিষ্যতে টলিউডের পেশাদারিত্বে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, কিংবা এই ব্যক্তিগত আক্রমণ আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

