থেমে গেল তাঁর কন্ঠের সুর! ৩৪ বছর বয়সেই থামলো জীবন! প্রয়াত সংগীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র!

ভারতীয় সংগীত জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে থেমে গেল এক জনপ্রিয় শিল্পীর জীবনযাত্রা। ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালের দোলাচলে তিন দিনের টানা লড়াই শেষে সব আলো নিভে যায়। আশার আলো জ্বললেও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিকিৎসকেরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন তাঁকে স্থিতিশীল রাখার। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতিতে সেই লড়াই আর সফল হয়নি।

হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক ছিল। একাধিক জটিলতার কারণে লাইফ সাপোর্ট আশ্রয় হয়ে উঠেছিল। ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চিকিৎসা চললেও শেষ ২৪ ঘণ্টায় কোনও উন্নতির ইঙ্গিত মেলেনি। চিকিৎসক দলের বিশেষজ্ঞরাও আশাহত হয়ে পড়েছিলেন তাঁর অবস্থা দেখে। তবুও তাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি ওড়িশার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হুমানি সাগর। তাঁর চিকিৎসক শ্রীকান্ত বেহেরা জানিয়েছেন, বাইল্যাটেরাল নিউমোনিয়া, অ্যাকিউট ক্রনিক লিভার ফেলিওর থেকে শুরু করে মাল্টি অর্গ্যান ডিস্ট্রেস—গায়কের শরীর একাধিক জটিলতায় জেরবার হয়ে পড়েছিল। উন্নত চিকিৎসার পরেও আর ফেরানো যায়নি তাঁকে। ১৭ নভেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হুমানির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও বৈজয়ন্ত পান্ডা। ওড়িশার চলচ্চিত্র ও সংগীতমহল তাঁকে হারানোকে এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করছে। ‘ভয়েস অফ ওড়িশা’ সিজন ২–এর বিজয়ী হিসেবে তাঁর উত্থান এবং ‘ইশক তু হি তু’ ছবির মাধ্যমে প্লেব্যাক-জগতে প্রবেশ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের বড় মোড়।

আরও পড়ুনঃ vপ্রযোজকের অশ্লীল দাবির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন পায়েল সরকার! বেরিয়ে এলো মুখোশের আড়ালে থাকা নোংরা মুখ!

এদিকে তাঁর মৃত্যুর পর ফের ভাইরাল হয়েছে হুমানি এবং তাঁর স্ত্রী শ্রিয়া মিশ্রের পুরনো বিবাদের ভিডিও। শ্রিয়ার অভিযোগ ছিল, স্বামী হিসেবে হুমানি তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন এবং ধর্ম মানার জন্যও চাপ দিতেন। তাঁদের মেয়ের জন্মের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। যদিও পরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দু’জনের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল, তবুও সেই পুরনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে গায়কের মৃত্যুর পর।

Back to top button