‘একটা স্কিমবাজ লোক, ম্যানুপুলেট করতে ভালো পারে…’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খুললেন সুরজিৎ ব্যানার্জি! আর্টিস্ট ফোরামের সিদ্ধান্ত নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক!

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকেই টলিউডে নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষিতে ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আর্টিস্ট ফোরাম, ইম্পা, ফেডারেশন এবং একাধিক প্রযোজক। সেখানে শ্যুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং পাশাপাশি ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে একাধিক পোস্টে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করা হয়। অনেকেই দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নাকি তাঁরই বড় ভূমিকা রয়েছে। এই অভিযোগের জবাব দিতে এগিয়ে আসেন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, রাহুলের মৃত্যুর পর প্রথম থেকেই আর্টিস্ট ফোরাম প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তখন আবার তাদের নিষ্ক্রিয় বলেও সমালোচনা করা হয়েছিল।

সুরজিৎ জানান, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় দায়িত্ব নিয়ে সকলকে একজোট করেছিলেন এবং নতুন কমিটি তাঁর পাশে ছিল। রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে তালসারিতে যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও একক ব্যক্তির নয়, বরং সকল পদাধিকারীদের সম্মিলিত মতামতের ফল। তাই শুধুমাত্র একজনকে দোষারোপ করা ঠিক নয় বলেই মত তাঁর।

এদিন সুরজিৎ তাঁর বক্তব্যে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওইদিনের বৈঠকে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনের গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা হয়েছে। সুরজিতের মতে, এমন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং মূল সমস্যার দিক থেকে নজর সরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ‘বাবা-মা পাশে না থাকলে, আমার অবস্থাও সুশান্তের মতো হতো!’ রাজ চক্রবর্তীর মন্তব্যে চরম অবসাদে তলিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়! নিয়েছিলেন আ’ত্মহত্যার সিদ্ধান্ত! কাজ করেও বদনাম, আর কাজ করতে করতেই মৃ’ত্যু!

শেষে সুরজিৎ বলেন, এতদিন আর্টিস্ট ফোরামকে নিষ্ক্রিয় বলে সমালোচনা করা হয়েছে, আর এখন তারা সক্রিয় হওয়ার পরেও আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই ধরনের দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, এই সময়ে একে অপরকে দোষারোপ না করে বরং শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Back to top button