‘কাঁদতেই চাই না…’ ‘সে তো নিজের প্রিয় কাজ করতে করতেই চিরঘুমের দেশে!’ চিরতরুণী মায়ের অকাল বিদায়ে স্তব্ধ সুদীপ্তা-বিদিপ্তার-বিদিশা!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী সুদীপ্তা ও বিদিপ্তা (Sudipta-Bidipta) চক্রবর্তীর পরিবারে শোকের ছায়া। তবে এই শোক কেবল বিয়োগান্তক নয়, বরং এক বর্ণময় জীবনের হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার গল্প। চিরতরে চলে গেলেন তাঁদের মা দীপালি চক্রবর্তী। পর্দার ওপারে থাকা মানুষটি আসলে ছিলেন চক্রবর্তী পরিবারের আসল চালিকাশক্তি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের আবহ টলিপাড়ার শিল্পী মহলে, কিন্তু তাঁর কন্যারা চান না চোখের জলে মাকে বিদায় দিতে; বরং তাঁরা চান মায়ের প্রাণোচ্ছলতাকে আজীবন উদযাপন করতে।
মায়ের প্রয়াণের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন সুদীপ্তা, বিদিপ্তা ও তাঁদের ছোট বোন বিদিশা। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা জানান, তাঁদের মা ছিলেন অদম্য জীবনীশক্তির অধিকারী। গাছ দেখলে যিনি উপরে উঠে যাওয়ার কথা ভাবতেন কিংবা পুকুর দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতার কাটতে চাইতেন, সেই মানুষটির এমন হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে শিল্পী মহলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন তিনি। শেষ দিনেও হলদিয়াতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন দীপালি দেবী। তাঁর কন্যারা জানান, যা করতে তিনি সবথেকে বেশি ভালোবাসতেন সেই নাচ করতে করতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থতার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত এবং আকস্মিক। হলদিয়ার অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর হঠাৎই অসহ্য মাথার যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং ইমার্জেন্সি সার্জারির প্রয়োজন। সেই যে দীপালি দেবী চোখ বন্ধ করলেন, আর তা খোলেননি। বিদিপ্তা জানান, তাঁদের মা অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত জীবনের শেষ মুহূর্তটুকু উপভোগ করে গেছেন। কোনো কষ্ট বা জরা তাঁকে গ্রাস করার সুযোগ পায়নি, নাচের ছন্দেই তিনি যেন পাড়ি দিলেন অন্য ভুবনে।
তিন বোনেদের কথায়, তাঁদের মা ছিলেন তাঁদের সবথেকে বড় আশ্রয় এবং বন্ধু। বড় লাল টিপ আর সাজগোজ ছিল তাঁর সিগনেচার স্টাইল। আইসিইউতে ভর্তি থাকাকালীনও বহু মানুষ তাঁকে দেখতে ভিড় জমিয়েছেন, যা দেখে কন্যারা অনুভব করেছেন যে তাঁদের মা কেবল তাঁদের নয়, বরং বহু মানুষের কত কাছের ছিলেন। বিদিশা জানান, পরিবারের ছোট মেয়ে হওয়ার কারণে তিনিই সবথেকে বেশি শাসন করতেন মাকে, আর মা-ও সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছোট মেয়ের মতামতের অপেক্ষায় থাকতেন। এই গভীর বন্ধনই এখন তাঁদের সম্বল।
আরও পড়ুনঃ লাইভ শো-এর মঞ্চেই মারাত্মক শ্বাসকষ্ট! মঞ্চেই ভয়ংকর পরিণতি! হাসপাতালে নিয়ে যেতেই…!
শোকের এই কঠিন সময়েও সুদীপ্তা ও বিদিপ্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা মাকে নিয়ে কাঁদতে চান না। তাঁদের কথায়, “মা তো সবসময় হাসতেন, তাই আমরা তাঁকে হেসেই বিদায় জানাতে চাই।” যে মানুষটি গান শুনলেই নাচতে শুরু করতেন, যাঁর কপালে সবসময় শোভা পেত সেই বড় টিপ— সেই ছবিটাই মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখতে চান তাঁরা। টলিউডের শিল্পী থেকে থিয়েটার কর্মী, সকলের কাছেই ‘দীপালদি’ ছিলেন এক অফুরন্ত প্রাণশক্তির নাম, যাঁর অভাব দীর্ঘকাল অনুভূত হবে বাংলা সংস্কৃতি মহলে।

