‘আমি কারোর ধর্মীয় রুচিতে বাধা দিতে পারি না’, ‘বাবা মায়ের সামনেই তাহলে সে’ক্স করো!’ নিজের মতামত নিয়ে মুখ খুললেন সুদীপা চ্যাটার্জী!

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোগুলির (Reality Show) মধ্যে অন্যতম একটি হলো রান্নাঘর (Rannaghor)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো জি বাংলার পর্দায় সম্প্রচারিত হচ্ছে। এই শো-এ প্রথম দিন থেকেই সঞ্চালিকা হিসেবে দর্শক যাকে দেখে অভ্যস্ত তিনি হলেন সুদীপা চ্যাটার্জী। মাঝে বেশ কয়েকবার সুদীপার ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য সঞ্চালিকার জায়গায় বিভিন্ন অভিনেত্রীরা এসেছেন কিন্তু সুদীপার মতো করে রান্নাঘর কেউ সামলাতে পারেননি।

বর্তমানে রান্নাঘরের নতুন সিজনে সুদীপাকে আর দেখা যায় না। জি বাংলার পক্ষ থেকে বরাবরের মতো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। তার পরিবর্তে নিয়ে আসা হয়েছে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ধাক্কাটা সুদীপার কাছে অনেক বড় ধাক্কা ছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সম্পর্কে হওয়া সমালোচনা, ট্রোল ইত্যাদি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।

উল্লেখ্য সুদীপার নানান কর্মকাণ্ডের জন্য বারবার তাকে অপমানিত হতে হয়েছে, সমালোচিত হতে হয়েছে। পড়তে হয়েছে ট্রোল এবং কটাক্ষের মুখে। গোমাংস খাওয়া থেকে শুরু করে, ডেলিভারি বয়ের সাথে অসভ্য আচরণ নিয়ে বারবার তাকে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত ঘটনার পেছনে আসল ঘটনার কথা এবার নিজের মুখে জানালেন সুদীপা।

বাংলাদেশে, রাঁধুনী-এপার ওপারের রান্না নামের রান্না বিষয়ক একটি টিভি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। ঈদের ঠিক আগে দেখানো হয় ওই অনুষ্ঠানটি। সুদীপা যেদিন তাতে উপস্থিত ছিলেন সেদিন গো-মাংসের একটি পদ রান্না হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই নিয়েই বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে সুদীপা জানিয়েছেন, ‘গোমাংস বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্যের তালিকায় পড়ে। আমি কারোর ধর্মীয় রুচিতে বাধা দিতে পারি না। আমি যদি নিজের ধর্মকে সম্মান করি, তাহলে অন্যের ধর্মাচরণে বাধা দিতে পারি না।’

বেশি কিছু বছর আগে একবার সুইগি ডেলিভারি বয় এর সাথে অসভ্য আচরণ করা নিয়ে সুদীপাকে আবারো চরম কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই নিয়েও সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন সুদীপা। সুইগি থেকে খাবার অর্ডার করেছিলেন অভিনেত্রী। ওই ডেলিভারি বয় লোকেশনে এসে অভিনেত্রীকে ফোন করে তার থেকে লোকেশন জানতে চান। সেই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সুদীপা লেখেন, ‘আমি শুধু জানতে চাই যে সুইগির ডেলিভারি বয়রা ফোন না করে লোকেশনে আসতে পারেন না? আবার ফোন করে এটাও বলে, আপনি গেটটা খুলুন, আমি আসছি। কেন? আমি কি দারোয়ান নাকি যে গেট খুলব?’ আর এই নিয়ে বিতর্কে মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে অভিনেত্রী সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ‘আমি অর্ডার করার সময় ওখানে এভয়েড ফোন কলের অপশন বেছে নিয়েছিলাম। যাতে ডেলিভারি বয় আসলে আমার বাড়ির বেল বাজায় আমাকে যাতে ফোন না করে। কারণ অনেক সময় আমি ফোনের কাছাকাছি থাকতে পারি না। যার ফলে আমি ফোন করতে না করেছিলাম। এটাই ছিল তার পেছনের মূল কারণ। কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য আমার কিন্তু ছিল না। এখন যদি এসব কথা বলি লোকে আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ মাঝরাতে মারাত্মক কাশি সঙ্গে শ্বাসকষ্ট! গুরুতর অবস্থায় অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর দাদা! ছুটে এলেন প্রাক্তন স্ত্রী!

সম্প্রতি মমতা শঙ্কর সেনেটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলো নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। সুদীপার কথায়, ‘মমতা শঙ্কর অনেক পুরনো দিনের মানুষ তার ভাবনা চিন্তা আলাদা হতেই পারে। বর্তমান সময়ের সাথে তার ভাবনা চিন্তার মিল নাই হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় আমি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মায়ের বয়সী মানুষকে অসম্মান করব, অপমান করবো। তাকে বাজে ভাষায় আক্রমণ করব। আমাদের মা জেঠিমারাও স্যানিটারি ন্যাপকিনের অ্যাড দেখলে লজ্জা পেতো। কিন্তু এখনকার সময় পাল্টেছে আমরা তাকে বড়জোড় বোঝাতে পারি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। কিন্তু এভাবে অপমান করতে পারি না। অনেক কিছুই তো আমরা আড়ালে থেকে করি কারণ সেগুলো আড়ালে রেখে করার মতোই কাজ। তাহলে তো সে ক্ষেত্রে বলতে হয় বাবা মায়েরা তো জানে আমরা দরজার আড়ালে সেক্স করি, তাহলে সেটাও বাবা মায়ের সামনেই করা যেতে পারে।’ এসব নানান বিতর্কমূলক কথা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।

Back to top button