‘বুড়োটাকে ক্ষমা করবেন…’- শুভশ্রীর অভিনয়ে আবেগাপ্লুত কবীর সুমন! মেয়ের বয়সী অভিনেত্রীর থেকে কেন ক্ষমা চাইলেন বর্ষীয়ান গায়ক?

২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’। এই ছবিতে নটী বিনোদিনীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। মুক্তির পর থেকেই ছবির নানা মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে টলিউডে। বিশেষ করে ছবির একটি গান ‘দেখ দেখ কানাইয়ে’ দর্শকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। এই গান ঘিরেই এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেয় কবীর সুমনের একটি বার্তা, যা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি শুভশ্রী নিজেও।
সম্প্রতি ছবির একটি ইভেন্টে পুরো টিমের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান কবীর সুমন। সেই ভিডিওতেই তিনি শুভশ্রীর অভিনয় এবং অভিব্যক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে প্রশংসার মাঝেই নিজের বয়সজনিত ভুলভ্রান্তির কথা তুলে ধরে নায়িকার কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। শুভশ্রীর নাম ঠিকভাবে বলছেন কিনা তা নিয়ে তাঁর সামান্য দ্বিধা ছিল বলেই মজা করে নিজেকে বুড়ো বলে উল্লেখ করেন কবীর সুমন।
ভিডিওতে কবীর সুমন বলেন, তিনি নটী বিনোদিনীর চরিত্রে শুভশ্রীর গান নাচ এবং অভিনয় দেখে কেঁদে ফেলেছেন। তাঁর কথায় উঠে আসে কতটা গভীরভাবে এই পরিবেশনা তাঁকে স্পর্শ করেছে। তিনি জানান, এমন মন ছুঁয়ে যাওয়া সুর কথা এবং নাচ তিনি বহুদিন দেখেননি। তাঁর মতে, এটি শুধুই নাচ বা অভিনয় নয় বরং তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এই আশীর্বাদস্বরূপ কথাগুলি শুনে আবেগে ভেঙে পড়েন শুভশ্রী।
ছবিটি শুধুমাত্র একটি সময়কালের গল্প নয়। এখানে তিনটি ভিন্ন সময়কে এক সুতোয় বেঁধেছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। শ্রী চৈতন্যের সময়কাল নটী বিনোদিনী ও গিরিশ ঘোষের সময় এবং বর্তমান সময় একসঙ্গে মিশে গিয়েছে ছবির বয়ানে। শ্রী চৈতন্যের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত। ছবির ভিতরে আরেকটি ছবির গল্পেও দেখা যাবে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে।
আরও পড়ুনঃ ‘ছেলেমেয়েরা বড় হলে মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যায়…’- দেবের জন্মদিনে কেন এমন বললেন অভিনেতার মা? তবে কি মাকে সময় দেন না দেব?
এই ছবিতে শুভশ্রীর চরিত্র নটী বিনোদিনী বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নটী বিনোদিনীর জীবনের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল চৈতন্যলীলা এবং সেই আবেগই ছবির কেন্দ্রে। শুভশ্রী ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন আরাত্রিকা মাইতি ইশা সাহা ব্রাত্য বসু সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। সব মিলিয়ে ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ শুধু একটি ছবি নয় বরং ইতিহাস আবেগ ও শিল্পের এক অনন্য মেলবন্ধন।

