‘হয়তো আ’ত্মহত্যাই করে ফেলতাম…’ ‘বাইরে থেকে বোঝা যায় না কিন্তু ভিতরে…’ বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর পেছনে শুধুই একঘেয়েমি আর ডিপ্রেশন? মুখ খুললেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়!

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর পেছনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন কেমন কাটে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায় এবং ঈশিতা। দীর্ঘ আলাপচারিতায় তাঁরা কেবল নিজেদের অভিনয় জীবন বা চরিত্রের কথাই বলেননি, বরং মন খুলে কথা বলেছেন বিনোদন জগতের অন্দরের নানা বাস্তব চিত্র এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। তাঁদের এই গভীর জীবনমুখী আলোচনা দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।

অভিনয়কে যাঁরা স্বাধীন পেশা হিসেবে বেছে নেন, তাঁদের জীবনটা বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় মনে হয়, ভেতরে কিন্তু ঠিক ততটাই কঠিন। শুভাশিস ও ঈশিতা আলোচনায় তুলে ধরেন যে, এই পেশায় কোনো নির্দিষ্ট কাজের সময় থাকে না এবং আয়ের দিক থেকেও অনেক সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। টেলিভিশন মিডিয়া ও মূলধারার সিনেমা জগতে টিকে থাকার জন্য একজন অভিনেতাকে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই স্বাধীন পেশায় নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এবং সীমাবদ্ধতাগুলোকে জয় করা কতটা বড় চ্যালেঞ্জ, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাই তাঁরা ভাগ করে নিয়েছেন।

এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল জীবনের একঘেয়েমি নিয়ে তাঁদের অকপট স্বীকারোক্তি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একই ধরণের চরিত্র বা একই ধরণের জীবনযাপন করতে হলে মানুষের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে তাঁরা কথা বলেন। তাঁরা মনে করেন, একটা চারদেয়ালের ঘরে যদি রোজ একই ধরণের বৈচিত্র্যহীন জীবন কাটাতে হয়, তবে মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই হারিয়ে যেতে পারে। আর এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তির জন্যই মানুষ প্রতিনিয়ত অভিনয়ে বা নিজের জীবনে নতুন কোনো বৈচিত্র্য খোঁজার চেষ্টা করে।

বর্তমান সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য বা ডিপ্রেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিনোদন জগতের তারকাদেরও যে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা শুভাশিস ও ঈশিতার কথা থেকে স্পষ্ট জানা যায়। পেশাগত চাপ, ব্যর্থতা কিংবা একাকীত্ব থেকে কীভাবে মানুষের মনে অবসাদ দানা বাঁধে, তা নিয়ে তাঁরা কথা বলেছেন। এই ধরণের মানসিক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকে সময় দেওয়া এবং জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোর মধ্যে আনন্দ খুঁজে নেওয়া কতটা জরুরি, সেই বিষয়েও তাঁরা জোর দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ আদিত্য-পল্লবীর জোর টক্কর! আদিত্যকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিল পল্লবী! রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত কি বদলে দেবে আদিত্যের ভাগ্য?

সাক্ষাৎকারটির শেষ অংশে শুভাশিস ও ঈশিতা তাঁদের এই দীর্ঘ পথচলাকে তাঁদের প্রজন্মের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে উল্লেখ করেন। আগামী ৩রা জুলাই একাডেমিতে তাঁদের একটি বিশেষ আয়োজনও রয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, এই আলোচনার মাধ্যমে তাঁরা বুঝিয়েছেন যে অভিনয় কেবল বিনোদন নয়, এটি জীবনেরই একটি আয়না। আর জীবনের এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে কাজের পাশাপাশি নিজের মন ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

Back to top button