‘প্রথম নিজের কেন্দ্রে নিজেই ভোট দিচ্ছি…’ ‘ষড়যন্ত্র করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে…’ ভোট দিতে না পারা সাধারণ মানুষের পাশে লাভলি মৈত্র!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে এক বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র (Lovely Maitra) মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটদান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, রাজনৈতিক জীবনে এটি এক অনন্য মাইলফলক। প্রথমবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে নিজেকেই প্রার্থী হিসেবে ভোট দেওয়ার এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তিনি বরাবরই সচেষ্ট এবং কোনোবারই ভোট দিতে ভুল করেন না বলে জানান তিনি।
তবে নিজের ব্যক্তিগত খুশির পাশাপাশি ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লাভলি। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বহু সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, অনেক মানুষ তিন থেকে চারবার হিয়ারিং সেন্টারে হাজিরা দিয়েও শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন তিনি। যারা ভোট দিতে পারলেন না, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি এই গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নির্বাচনী আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই তারকা বিধায়ক। লাভলি মৈত্রর দাবি, বিভিন্ন বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষের সহায়তার বদলে শাসক দলের বিরুদ্ধে এবং বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁর মতে, বাহিনীর এই আচরণ অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট এবং এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে তারা বিশেষ কোনো নির্দেশে কাজ করছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে এও যোগ করেন যে, দ্বিতীয় দফার ভোটের পর বিজেপির আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের পক্ষেই তাঁদের রায় দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ‘৬০ বছরে এমন ভোট দেখিনি!’ গণতন্ত্রের হাল দেখে ক্ষুব্ধ রঞ্জিত মল্লিক! নির্বাচনের অব্যবস্থা নিয়ে তোপ বর্ষীয়ান অভিনেতার!
নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লাভলি সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি মনে করেন, বিজেপি চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের বৈধ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। লাভলি জানান, এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “সারা দেশের সব পুলিশ নিয়ে আসলেও এখানে কোনো লাভ হবে না,” কারণ বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে জানেন এবং তাঁরা তৃণমূলের পাশে রয়েছেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের এই লড়াইকেই তিনি নির্বাচনের আসল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।
সবশেষে, সামগ্রিক ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন লাভলি। তিনি বলেন যে, গরমের দাপট থাকলেও আজ আবহাওয়ার বেশ অনুকূল ছিল, যা সাধারণ মানুষের ভোটদানে অনেক সুবিধা করে দিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ভোটগ্রহণের গতি ধীর হওয়া সত্ত্বেও মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ধৈর্য ধরে ভোট দিয়েছেন, যার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। মানুষের এই বিপুল উৎসাহ প্রমাণ করে যে তাঁরা গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে কতটা আগ্রহী এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ইচ্ছাই জয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

