প্রথমে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার! এখন বিজেপির জয়ে অভিনন্দন? ‘রং বদল নাকি সৌজন্য?’ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তীব্র কটাক্ষের মুখে অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) পর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সৌমিতৃষা কুণ্ডু (Soumitrisha Kundu)। ২০১৭ সালে নেতিবাচক চরিত্রে ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় পা রাখেন সৌমিতৃষা কুণ্ডু। এরপর ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালী’ বা ‘গোপাল ভাঁড়’-এর মতো একাধিক কাজ করলেও ‘কনে বউ’ ধারাবাহিকে প্রথমবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে নজর কাড়েন তিনি। তবে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় জি বাংলার জনপ্রিয় মেগা ‘মিঠাই’। এই একটি সিরিয়াল তাঁকে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এবং প্রতিটি ঘরে পরিচিতি এনে দেয়। ধারাবাহিকের গণ্ডি পেরিয়ে দেবের বিপরীতে ‘প্রধান’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে ‘১০ই জুন’ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর ‘কালরাত্রি’ ওয়েব সিরিজের দুটি সিজনে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
পেশাদার অভিনয় জীবনের পাশাপাশি সৌমিতৃষার রাজনৈতিক পরিচয়ও গত কয়েক বছরে বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রায় বছরখানেক আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে তাঁকে ভোট প্রচারেও দেখা গিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তিনি কখনোই গোপন করেননি, বরং রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে তিনি বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটও পেতে পারেন।
নির্বাচনের ফলাফলের দিন যখন প্রাথমিক গণনায় বিজেপি এগিয়ে ছিল, তখনও সৌমিতৃষাকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছিল। সেই কঠিন সময়েও তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরালো সওয়াল করেছিলেন। শাসক দলের প্রতি তাঁর এই অবিচল আনুগত্য সেই সময় টলিউড তথা রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক চমকপ্রদ মোড় নিলেন এই অভিনেত্রী। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে বিজেপি এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি এবং আমাদের রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আশা রাখছি এই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের এক শুভ সূচনা হবে।’ রাজ্যের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ইন্ডাস্ট্রিতে স্বচ্ছতা আরও বেশি করে আসুক…’ ‘বাংলা সিনেমায় বিনিয়োগ আরও বেশি…’ নতুন সরকারের কাছে কী দাবি রাখলেন অভিনেতা? স্পষ্ট জানালেন আবির চ্যাটার্জি!
সৌমিতৃষার এই ভোলবদল সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা খুব একটা সহজভাবে গ্রহণ করেননি। তাঁর পোস্টের নিচে জমা হয়েছে অসংখ্য বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য। কেউ তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ তাঁর এই আচরণকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। তৃণমূলের একনিষ্ঠ ভক্ত থেকে রাতারাতি বিজেপির জয়গান গাওয়ার এই ঘটনাটি তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন রাজনৈতিক আবহে সৌমিতৃষা নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নেন।

