‘শিক্ষিত ও মেরুদণ্ডী এক অভিনেতা ছিলেন রাহুল!’ ‘দায়িত্ব এড়াচ্ছে সবাই…’ কাদের উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন তাপস কন্যা সোহিনী পাল!

জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল মৃত্যুতে শোকাতুর গোটা টলিউড। কিন্তু এই শোকের আবহেও জোরালো হচ্ছে একরাশ ক্ষোভ আর বিতর্ক। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা মৃন্ময় কাঞ্জিলাল এবং সোহিনী পাল রাহুলের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা এবং ইন্ডাস্ট্রির গা-ছাড়া মনোভাব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, রাহুলের মতো একজন ব্যক্তিত্বের স্মৃতিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।
রাহুলকে একজন ‘শিক্ষিত এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখা’ মানুষ হিসেবে অভিহিত করে সোহিনী পাল জানান, রাহুলের চলে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক হলো তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম বিভ্রান্তি। সোহিনী অভিযোগ করেছেন যে, রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নিয়ে একেক জন একেক রকম কথা বলছেন। কেউ বলছেন লাইফ বোট থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে, আবার কেউ বলছেন শুটিং শেষ হওয়ার পর এই ঘটনা। সঠিক তথ্যের এই অভাব রাহুলের স্মৃতির প্রতি চরম অসম্মান বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মীরা।
আলোচনায় শুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। সোহিনী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বা সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো সিনিয়র অভিনেতাদের সময় থেকে কাজ চলে আসলেও, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে এত বছর কেউ মাথা ঘামায়নি। এখন একটি বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর টনক নড়ছে ইন্ডাস্ট্রির। সেটে পর্যাপ্ত সেফটি প্রোটোকল না থাকাকে একটি নিয়মিত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার চরম মূল্য দিতে হলো রাহুলের মতো প্রতিভাকে।
ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও ভিডিওটিতে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। মৃন্ময় ও সোহিনী উভয়েই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কেউ দায়ভার নিতে চাইছে না। বরং একে অপরকে দোষারোপ বা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একজন দক্ষ অভিনেতার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে কেন স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই এখন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সহকর্মীদের মনে দানা বাঁধছে।
আরও পড়ুনঃ ব্রেন স্ট্রো’কের সঙ্গে লড়াই শেষ! বিদায় নিল ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের এক মহারথী! কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণে বিনোদন জগতে নেমে এলো গভীর অন্ধকার!
পরিশেষে, উঠে এসেছে বিচার এবং সত্য উদ্ঘাটনের দাবি। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে যে পরিকাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে, তা রাহুলের এই শোকাবহ ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, স্রেফ মৌখিক আশ্বাসেই কি সব থিতিয়ে যাবে, নাকি শিল্পী সংগঠনের হস্তক্ষেপে শুটিং সেটে নিরাপত্তা এবং রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে আসবে। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের একটাই দাবি কাজের জায়গায় প্রাণহানি আর নয়।

