সদ্যোজাত সন্তানের মৃ’ত্যুর তিন মাস পার! ‘গড়িয়ে পড়া বুকের দুধ…’- আবেগে ভাসলো এক সন্তানহারা মা! কি বললেন সোহিনী?

সন্তান হারানোর শোক যে কতটা গভীর হতে পারে, তা আবারও অনুভব করালেন ইনফ্লুয়েন্সার সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়। সাড়ে তিন মাসের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি ফিরে এলেন সমাজমাধ্যমে। কয়েক মাস আগে মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনায় তাঁকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল নেটদুনিয়া। চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ থেকে শুরু করে পাল্টা বক্তব্য, সব মিলিয়ে সেই সময়টা ছিল ভয়াবহ। ২ সেপ্টেম্বর স্বামীর সঙ্গে একটি দীর্ঘ ভিডিয়ো পোস্ট করার পর আর কিছুই শেয়ার করেননি সোহিনী। অবশেষে ১৫ ডিসেম্বর পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার কিছু ছবি পোস্ট করে জানালেন, তিনি ফিরেছেন, তবে শোক এখনও তাঁর নিত্যসঙ্গী।
পাহাড় আর ঝরনার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ছবিগুলিতে বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও, ক্যাপশনে ধরা পড়েছে এক মায়ের অসীম কষ্ট। সোহিনী লিখেছেন, একুশে আগস্টের পর থেকে প্রতিদিন দিন রাত জুড়ে সন্তানের সঙ্গে তাঁর নীরব কথোপকথন চলছে। ডায়েরির পাতায় কথা লিখতেন তিনি, যা এখন আর খুঁজে পান না। তাই সমাজমাধ্যমকেই বেছে নিয়েছেন নিজের অনুভূতি উজাড় করে দেওয়ার জায়গা হিসেবে। নয় মাসের গর্ভকাল, সন্তানের নড়াচড়া, মায়ের স্পর্শে শিশুর সাড়া দেওয়া, শিব বন্দনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি, সবই যেন ফিরে এসেছে তাঁর লেখায়।
সন্তানকে উদ্দেশ্য করে লেখা সেই কথাগুলিতে উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ কবিতার লাইনও। ভয় না পাওয়ার আশ্বাস যেন আজও তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সোহিনী স্বীকার করেছেন, মানুষ তাঁকে ভুলে যেতে বললেও তিনি পারেন না। পাহাড়ে গিয়ে প্রথম হাসি ফিরেছিল তাঁর মুখে, কিন্তু কালো চশমার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চোখের জল শুধু মা আর সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। প্রকৃতির কোলে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হয়েছে, সন্তান এখনও তাঁর কাছেই আছে।
লেখার পরতে পরতে ধরা পড়েছে শারীরিক আর মানসিক লড়াইয়ের গল্প। সোহিনী জানিয়েছেন, তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে এসেছেন। শরীর সেরে উঠতে সময় লাগবে, তবু সন্তানের উপস্থিতির বিশ্বাসই তাঁকে শক্তি দিচ্ছে। তিনি লিখেছেন, বুকের দুধ গড়িয়ে পড়া, জেগে থাকা রাত, শূন্য দোলনা, নিজের শরীরের সেলাই, স্বামীর না বলা কষ্ট, এসবই প্রকৃতি জানে, আর কেউ জানে না।
আরও পড়ুনঃ ‘যা ইচ্ছে তাই বলে দিয়েছে, দেব তো আসল মানেটাই জানে না…’- দেবকে নিয়ে বিস্ফোরক কোয়েল মল্লিক! কি এমন বলেছিলেন দেব?
এই আবেগঘন লেখার শেষে সোহিনী জানালেন, তাঁদের পোষ্য কাজু ভালো আছে এবং তাঁরা দুজনেই ভালো থাকার চেষ্টা করছেন। খুব বেশি কিছু না চেয়ে শুধু এইটুকুই চেয়েছেন, যেন মানুষ তাঁদের এই নীরব সংগ্রামটুকু সম্মান করে। পাহাড়ের ছবির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক মায়ের যন্ত্রণা, ভালো থাকার চেষ্টা আর সন্তানের প্রতি অটুট ভালোবাসাই যেন তাঁর এই ফিরে আসার আসল গল্প।

