‘আমার কেউ বন্ধু ছিল না, ওরা সবাই আমার সাথে…’- স্কুলজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেতা সায়ক!

অভিনেতা সায়ক জীবনের শুরুতে এমন অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন যা আজও তাঁর মনে দাগ কেটে আছে। অভাব, অর্থকষ্ট, অনিশ্চয়তা—সব কিছু পেরিয়ে আজ তিনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। কাজের ব্যস্ততা হোক বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত, তিনি প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়। তবে এবার যে কথা তিনি খোলামেলা বললেন, তা অনেকের কাছেই অজানা ছিল এবং বেশ বেদনাদায়কও বটে।
সায়ক জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁর স্কুলজীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টের। সোনারপুর বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করলেও সেই সময়টা তাঁর কাছে ছিল দুর্বিষহ। তিনি জানান, স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে খুব ভালোবাসতেন, কিন্তু সহপাঠীদের আচরণ ছিল ঠিক উল্টো। লাজুক স্বভাবের জন্য তাঁকে প্রায়ই নিশানা করা হতো এবং সহপাঠীদের অত্যাচারে তাঁর দিন কাটত আতঙ্কে। তাই প্রতিদিনই তিনি চেষ্টা করতেন তাড়াতাড়ি স্কুলে পৌঁছে প্রথম বেঞ্চে বসতে, কারণ পিছনের সারিতে বসা ছাত্ররা তাঁকে নিয়মিত টর্চার করত।
সম্প্রতি সায়ক লক্ষ্য করছেন, সেই ছোটবেলার তথাকথিত বন্ধুরাই এখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। কেউ তাঁকে নিজের বিয়েতে ডাকছে, কেউ আবার পাড়ার ফাংশনে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করছে। সায়কের বক্তব্য, যারা একসময় তাঁকে অপমান করেছে তারা কখনই তাঁর বন্ধু হতে পারে না। তিনি বিনীতভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা যেন আর তাঁকে মেসেজ না করে, কারণ তাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
সায়ক স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারা তাঁর ছোটবেলায় এত কষ্ট দিয়েছে, তাদের প্রতি তাঁর কোনও বিদ্বেষ নেই, তবে তিনি ভুলেও তাঁদের বন্ধু মনে করেন না। তাঁর কথায়, প্রকৃত শত্রুরাও এতটা খারাপ হয় না। ইচ্ছে করলে তিনি সেই মানুষগুলোর নাম প্রকাশ করতে পারতেন, কিন্তু এত বছর পর আর তা করতে চান না। তিনি শুধু চান, তাঁরা বুঝুক তাঁদের কাজ একদিন তাঁদের দিকেই ফিরে আসবে।
আরও পড়ুনঃ বিবাহবার্ষিকীতেই বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে পাওলি? মুখ খুললেন অভিনেত্রী!
একসময় ভীষণ লাজুক ছিলেন সায়ক, নিজের কষ্টের কথা বলতেও ভয় পেতেন। কিন্তু আজ তিনি নিজের হয়ে কথা বলার সাহস অর্জন করেছেন। এত বছর ধরে চেপে রাখা সেই যন্ত্রণা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে তিনি এবার মুখ খুললেন নিজের মতো করেই, আর বললেন তাঁর জীবনের সত্যিটা পরিষ্কার ভাষায়।

