‘এমন ভাবে চলে যাওয়াটা মানতে পারছি না…’ কাছের মানুষকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ সায়ক! কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতা!

অভিনেতা সায়কের মনে এখন শুধুই শোক আর অবিশ্বাস। খুড়তুতো দিদির মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি স্মৃতিমাখা ছবি শেয়ার করে সায়ক জানান, ছোটবেলা থেকে পারিবারিক দূরত্বের কারণে তিনি জানতেই পারেননি যে তাঁর ‘মাম্পি দিদি’ নামে একজন দিদি আছে। বাবা এবং কাকার মধ্যে সম্পর্ক না থাকায় সেই স্নেহের সম্পর্ক কখনও গড়ে ওঠেনি। ২০০২ সালে দাদুর মৃত্যুর পর প্রথমবার দেখা হয় তাঁদের, আর সেই থেকেই শুরু হয় এক নতুন উপলব্ধির পথ।
দীর্ঘ দু’দশকের ব্যবধানে, ২০২৪ সালে হঠাৎ একদিন কাজে হাবড়া যাওয়ার প্রয়োজনে সায়ক দিদির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই সাক্ষাৎ তাঁর স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল। সায়ক জানান, এত আন্তরিক আপ্যায়ন কখনও পাননি জীবনে। নিজ হাতে রান্না করা কাতলার বিশেষ পদ খাইয়ে দিদি যেন মুহূর্তেই তাঁকে আপন করে নিয়েছিলেন। সেই সামান্য সময়ের মধ্যে দিদির হৃদয়ের দরদ তিনি স্পষ্ট অনুভব করেছিলেন।

কিন্তু দিদির শারীরিক অবস্থা সায়ককে উদ্বিগ্ন করত। হাঁটাচলায় শব্দ, বসে বসে ঘুমিয়ে পড়া—সবই ছিল সমস্যা জানানোর ইঙ্গিত। বহুবার ডাক্তার দেখাতে বললেও দিদি কখনও রাজি হতেন না। শুধু টাকা জমিয়ে যেতে চাইতেন। কেন সেই সঞ্চয়, তা বুঝতে পারেন সায়ক। দিদির মৃত্যুর পর সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ের অশান্তি সবকিছু কেবলই আরও তিক্ত করে তুলেছে পরিস্থিতিকে।
সায়ক আক্ষেপ নিয়ে জানান, যে ভাইকে দিদি প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসতেন, যে ভাই দিদির রান্না খেতেন না তাঁর প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও দেখালেন না দিদির মৃত্যুর মুহূর্তে। দিদির দেহ পড়ে আছে, আর ভাই ব্যস্ত কাগজপত্র খুঁজে বেড়াতে। পারিবারিক কলহ এবং সম্পত্তির লোভের চিত্র দেখে হতবাক সায়ক জানান, সম্পত্তি কতটা মানুষকে অমানবিক করে তুলতে পারে তা তিনি চোখের সামনে দেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ ফুলকি শেষ হতেই নতুন চমক! নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিলেন দিব্যাণী? নতুন ধারাবাহিকে পা রাখতে চলেছে ফুলকি? কবে আসছে এই নতুন মেগা?
সবশেষে সায়ক জানালেন, পাড়ার মানুষের ভালোবাসাই দিদিকে সত্যিকারের সন্মান দিয়েছে। স্বল্প সময়ের সম্পর্ক হয়েও দিদির নিখাদ স্নেহে তিনি অভিভূত হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, দিদি তাঁকে মন থেকে ভালোবেসেছিলেন, তিনিও দিদিকে সমান ভালোবাসতেন। আজও তিনি মানতে পারছেন না, তাঁর ‘মোটা দিদি’ আর নেই।

