‘আমাদের সময়ে এই লিভ-ইন থাকলে ভালো হতো, তাহলে…!’ কিসের এত আক্ষেপ অভিনেতার? বিয়ের আগে কেন লিভ-ইন-এ থাকতে চেয়েছিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়?

বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি দুঁদে ইনভেস্টিগেটর থেকে শুরু করে সিরিয়াল কিলার সব চরিত্রেই সমান সাবলীল। কিন্তু পর্দার এই তুখোড় অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের (Saswata Chatterjee) ব্যক্তিগত জীবনের প্রেমের শুরুটা হয়েছিল খুবই সাদামাটাভাবে। সম্প্রতি ‘সঙ্গীত বাংলা’র জনপ্রিয় শো ‘গ্ল্যাম গ্লস’-এ এসে নিজের অভিনয় জীবন, প্রেম এবং বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির হালহকিকত নিয়ে অকপট আড্ডায় মাতলেন অভিনেতা।
পুরানো দিনের কথা মনে করে শাশ্বত জানান, তাঁর প্রথম প্রেম ছিল স্কুলের সময়। মেয়েটি তাঁর পাড়াতেই থাকত। অভিনেতা স্মৃতির সরণি বেয়ে বলেন, ‘তখনকার প্রেম তো অন্যরকম ছিল। পাড়ার মেয়েটির জানলার পর্দা যদি একটু ফাঁক হতো, তাতেই সারাদিন ভালো কেটে যেত।’। বর্তমান প্রজন্মের ‘প্র্যাক্টিক্যাল’ প্রেমের চেয়ে সেই ভালো লাগার অনুভূতি যে অনেক বেশি গভীর ছিল, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট।
সম্পর্ক নিয়ে শাশ্বতর ধারণা খুবই স্বচ্ছ। তাঁর মতে, বিয়েতে রোমান্সের চেয়েও বেশি জরুরি হলো বন্ধুত্ব। ‘বন্ধুত্বের জায়গাটা যদি না থাকে, তাহলে প্রেম জিনিসটা বেশিদিন টেকে না,’ বলে জানান তিনি। এমনকি লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়েও আধুনিক মনস্কতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, তাঁদের সময়ে যদি লিভ-ইন বা বাবা-মায়ের শাসন একটু কম থাকার চল থাকত, তবে হয়তো জীবনের সমীকরণ অন্যরকম হতো।
তাঁর মতে, একটি সফল বিয়ে বা সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বন্ধুত্ব; যদি সেই জায়গাটি নড়বড়ে হয়, তবে কেবল রোমান্স দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, তিনি লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা সহবাসের ধারণাকেও ইতিবাচকভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি মনে করেন, আগের প্রজন্মের সামাজিক শাসন ও বাধ্যবাধকতা কিছুটা কম থাকলে হয়তো অনেক সম্পর্ক আরও সহজ হতে পারত। মূলত, তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতানুগতিক প্রথার চেয়ে স্বচ্ছতা এবং মনের মিলকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘রাত প্রায় দেড়টা, কনকনে ঠান্ডা…১০,০০০ মানুষের ভিড়!’ এ যেন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা! জীবনের অজানা গল্প ভাগ করে নিলেন কাঞ্চন মল্লিক!
অভিনেতার মেয়েও এবার বাবার দেখানো পথেই হাঁটতে চলেছেন। শাশ্বত জানান, তিনি কোনোদিন মেয়ের ওপর নিজের ইচ্ছে চাপিয়ে দেননি। তবে মেয়েকে একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন কাজ যেমনই হোক, নেতিবাচকতা যেন কাজের ক্ষতি না করে। শাশ্বতর কথায়, ‘ছবি ভালো হোক বা খারাপ, কাজটা মন দিয়ে করা জরুরি’।

