‘সুন্দরী হওয়াই কি সব?’ ‘মাথার কোনো ঠিক ছিল না…’ ‘কখন হাসি মুখে কথা বলবেন কখন ক্ষেপে যাবেন…!’ ‘প্রচণ্ড ভয় পেতাম!’ মহানায়িকা সুচিত্রা সেনকে নিয়ে কেন এমন বললেন সাবিত্রী চ্যাটার্জি?

বাংলা সিনেমার দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চ্যাটার্জি (Sabitri Chatterjee) এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen)। পর্দায় তাঁদের অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনই পর্দার পেছনে তাঁদের বাস্তব জীবনের রসায়নও ছিল বেশ জমজমাট। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সাবিত্রী চ্যাটার্জির একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি সুচিত্রা সেনের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কিছু অজানা ও মজাদার গল্প ভাগ করে নিয়েছেন, যা ভক্তদের নস্টালজিক করে তুলেছে।
সাক্ষাৎকারে সাবিত্রী চ্যাটার্জি অকপটে স্বীকার করেছেন যে তিনি সুচিত্রা সেনকে বেশ ভয় পেতেন। এর প্রধান কারণ ছিল মহানায়িকার প্রচণ্ড ‘মুডি’ বা খামখেয়ালী স্বভাব। সাবিত্রী দেবীর কথায়, সুচিত্রা সেন কখন ভালো মেজাজে থাকবেন আর কখন হুট করে গম্ভীর হয়ে যাবেন, তা আগে থেকে আন্দাজ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব ছিল। এই অনিশ্চয়তার কারণেই শুটিং সেটে তটস্থ থাকতে হতো সবাইকে। তবে তাঁরা দুজনে একসাথে ‘অন্নপূর্ণার মন্দির’ এবং ‘গৃহদাহ’র মতো স্মরণীয় চলচ্চিত্রে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন।
এই কাজের সূত্র ধরেই মেকআপ রুমের একটি দারুণ মজার ঘটনা উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে। একবার এক সিনেমার শুটিং চলাকালীন সুচিত্রা সেন আচমকাই মেকআপ নিতে অস্বীকার করেন। তাঁর সাফ কথা ছিল, সাবিত্রী চ্যাটার্জিকে তাঁর ঘরে ডেকে না আনলে তিনি কোনোভাবেই সাজবেন না। বাধ্য হয়ে সাবিত্রী দেবী যখন তাঁর ঘরে যান, তখন দেখেন মহানায়িকা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই নিজে বলছেন, “হ্যাঁ, সুন্দরী বলে পার পেয়ে গেলি, সাবিতুর মতো অভিনয় করতে পারবি?” সুচিত্রা সেনের এই সরল আত্মোপলব্ধি ও প্রশংসা সাবিত্রী দেবীকে অবাক করেছিল।
বাইরে থেকে সুচিত্রা সেনকে যতোটাই গম্ভীর বা ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে হতো না কেন, ভেতর থেকে তিনি যে ভীষণ প্রাণোচ্ছল ছিলেন, সেই স্মৃতিও রোমন্থন করেছেন সাবিত্রী চ্যাটার্জি। তিনি জানান, একবার মুড ভালো থাকায় সুচিত্রা সেন রাত ১২টার সময় হুট করে সাবিত্রী দেবীকে তাঁর বাড়ি থেকে গাড়ি করে তুলে নেন। এরপর তাঁরা সোজা চলে যান আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী ছায়াদেবীর বাড়িতে। সেখানে গিয়ে মাঝরাতে সুচিত্রা সেন নিজে অত্যন্ত চমৎকার নাচ নেচে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বিরাট বড় ষ’ড়যন্ত্রের মুখে পারুল! পুলিশ সেজে প্রাণ গেল চার নিরীহ গ্রামবাসীর! কি করতে চলেছে সংযুক্তা?
সবশেষে সাবিত্রী দেবী স্পষ্ট করে বলেন যে, সুচিত্রা সেনের মেজাজের ওঠানামা থাকলেও মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত চমৎকার ও দয়ালু। যদি কারো সাথে তাঁর মনের মিল হয়ে যেত, তবে তাঁর চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউ হতো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ছোট্ট ভিডিওটি শুধুমাত্র দুই মহাতারকার ভেতরের সমীকরণকেই তুলে ধরে না, বরং বাংলা সিনেমার সেই স্বর্ণালী যুগের সুন্দর এবং সহজ-সরল সম্পর্কের এক অমলিন দলিল হিসেবে দর্শকদের সামনে ধরা দেয়।

