“কেউ কাজ দেয় না, যদি মরে যাই…”- মনে জমে থাকা দুঃখ নিয়ে মুখ খুললেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Bengali Film Industry) বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee)। সেই সাদা কালো ছবির সময় থেকে দর্শকের মনে ভালোবাসার জায়গায় তৈরি করে রয়েছেন অভিনেত্রী। একাধিক ছবিতে একাধিকবার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন বারবার। আজ, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, এই দিনই তাঁর জন্মদিন। ৮৮ বছরে পা দিলেন তিনি। নিজের জন্মদিনে সাক্ষাৎকারে মন খুলে নিজের মনের সমস্ত কথা বললেন ভক্তদের।

নিউ আলিপুর শহরে বিশাল বড় বাড়ি তার। সেই বাড়িতে এখনো বেশি সাজ সাজ রব। প্রতি বছরের মত এ বছরেও হাজার মানুষের আনাগোনা আজকের দিনটায়। অভিনেত্রী কথাতেই বোঝা যাচ্ছে তিনি বেশ খুশি। অভিনেত্রী বলেন ‘আমরা খুব ভালো লাগছে। সকাল থেকে অনেকে ফোন করছে। এই যে আপনার ফোনটা পেলাম, অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, মনে করে আজকের দিনে ফোন করলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো অনেকের কাছে আমি মারা গিয়েছি। আমার মৃত্যু নিয়ে ভুয়ো খবরও ছড়িয়েছে। এই বয়সে মানুষ কেবল মৃত্যুর জন্যই অপেক্ষা করতে পারেন। এখন তো আর কেউ বলবে না, দীর্ঘজীবী হও। সেই দীর্ঘজীবন আমি কাটিয়ে এসেছি।’

actress

বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় বিভিন্ন ধারাবাহিকের দাপিয়ে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে নতুন কোন ধারাবাহিককে দেখা যাচ্ছে না তাকে। সেই নিয়ে ভীষণ মন খারাপ, শুটিং ফ্লোরে যেতে চান তিনি। এই বিষয়ে অভিনেত্রী জানান ‘আমাকে কেউ নেয় না। ভাবে, যদি হুট করে মরে যাই, ছবির কাজটা শেষ হবে না। এটাই সকলের ভয়। সেটা থাকাও অমূলক নয়। হতেই তো পারে।’ তারপরই তাঁকে যেই বলা হয় শতবর্ষের কথা, ফের উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে, ‘ওরেব্বাবা, আমি তো চাই ১০০ বছর বাঁচতে। পারব কি না জানি না। তবে তাই-ই যদি হয়, খুব ভালো লাগবে। সেলিব্রেট করব। সবাইকে ডাকব।’

আরও পড়ুনঃ অনির্বাণের মায়ের ঠেলায় যাঁতাকলে রাই! ফের নতুন দ্বন্দ্বে নায়িকা! ফাঁ’স ধারাবাহিকের আগামী পর্ব!

অন্যদিকে মাতৃভাষা দিনটার কথা মনে করে স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী বলেন ‘আমার ঢাকার কথা সব মনে আছে। বাংলাদেশ আমার হৃদয় থেকে কোনওদিনও হারিয়ে যাবে না। আজ আবার মাতৃভাষা দিবস। বিশেষ একটা দিন। এতদিন মায়ের বুলিতেই অভিনয়টা করলাম। হয়তো কিছু রেখে যেতে পেরেছি মাতৃভাষার জন্য।’

আজকের দিনে বিশেষ কী আয়োজন? এই প্রশ্ন করতেই মৃদু হেসে বলেন, ‘বাড়িতে কিছু আয়োজন করিনি। বুড়ো হয়ে গিয়েছি এখন আবার কীসের জন্মদিন! আমি যে ক্লাবের সদস্য সেখান থেকে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে আমাকে সংবর্ধনা দেবে। আজ সন্ধ্যায় কিছুক্ষণের জন্য ওখানে যাব। ছোটবেলায় মা-ঠাকুমা জন্মদিন পালন করতেন। পায়েস বানিয়ে ঠাকুরকে দিতেন। পরে সেটা খেতাম। এখন আর সেরকম কেউ নেই যে ওই রীতিগুলো পালন করবে। সবাই এখন ব্যস্ত। তাছাড়া সিং ভেঙে বাছুরের দলে ঢুকতে আমার ভাল লাগে না।’

Back to top button