‘২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে গেছি মানেই…’ ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা মানেই কি দলবদল?…ওনার সঙ্গে মনের কানেকশনটা সব সময় থাকবে!’ ২১শে জুলাই প্রসঙ্গে সাফ জবাব রূপাঞ্জনা মৈত্রর! প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আর কি বললেন অভিনেত্রী?

টলিউড (Tollywood) তথা বাঙালি দর্শক মহলে অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় এক মুখ রূপাঞ্জনা মৈত্র (Rupanjana Moitra)। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে টেলিভিশন এবং বড় পর্দা উভয় মাধ্যমেই দর্শকদের মন জয় করে রেখেছেন। তবে শুধু অভিনয়ের আঙিনাতেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও বরাবরই অত্যন্ত স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী। সমসাময়িক নানা বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে তিনি কখনো দ্বিধাবোধ করেননি। সম্প্রতি এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের রাজনীতি, তাঁর নিজের অবস্থান এবং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ফের একবার অত্যন্ত সাহসী ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই অভিনেত্রী।

রূপাঞ্জনার এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটানো। গত ২১শে জুলাইয়ের একটি মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এবং স্টুডিও পাড়ায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তিনি হয়তো শাসকদলের বৃত্তে পা বাড়িয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, এটা মানুষের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে যাওয়া মানেই সেই দলের কর্মী বা সদস্য হয়ে যাওয়া। তিনি মনে করিয়ে দেন, কোনো রাজনৈতিক দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে গেলে নির্দিষ্ট পার্টির অফিসে গিয়ে পতাকা হাতে নিতে হয়, যা তিনি একেবারেই করেননি।

অভিনেত্রী মনে করেন, সমাজের প্রতিটি মানুষই আসলে কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক প্রাণী এবং দেশের ভালো-মন্দের সাথে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ জড়িয়ে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বা সমাজসেবা করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ বা দলের ব্যানারের প্রয়োজন হয় না। ২০১৯ সালে নিজের রাজনৈতিক পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি টলিউডের এক অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খোলেন। রূপাঞ্জনার অভিযোগ, এই ইন্ডাস্ট্রিতে যারা শাসকদলের বিপরীতে গিয়ে বিরোধী রাজনীতি করতে আসেন, তাঁদেরকে ক্রমাগত এক কঠিন খেসারত দিতে হয়। বিরোধী মনোভাবাপন্ন হওয়ার কারণে শিল্পীদের কাজের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের সিন্ডিকেট বা ‘লাইন কালচার’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। রূপাঞ্জনা জানান, বিগত ২০১৪-১৫ সাল থেকেই তাঁরা এই ধরণের নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন, যা নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত বিরক্ত। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজের পরিবেশ যাতে আরও নিরাপদ হয় এবং তাঁদের কর্মসংস্থান যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেই দিকেই এখন সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে যদি শিল্পীদের স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁদের বাক-স্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয়, তবে সেখানেই আসল গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসি শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ উজির জীবনে জোড়া ধাক্কা! একদিকে সায়ন্তনের চাল, অন্যদিকে নিশার নতুন পরিকল্পনা! আবার কোন ঝড় আসছে তার জীবনে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন রূপাঞ্জনা। তিনি জানান, নির্বাচনের পর থেকে এখন প্রতি মিনিটে মিনিটে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং অনেক কিছুই চোখের সামনে চলে আসছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি মনে করেন, শাসনব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পুরো সিস্টেম চলে, তাই জনগণের টাকা নিয়ে কী হচ্ছে না হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ পরিষ্কারভাবে সবার সামনে আসা উচিত। সবশেষে তিনি নির্ভীকভাবে জানান, যার মনে কোনো পাপ বা অপরাধের ভয় নেই, তার কাউকে ভয় পাওয়ারও কোনো কারণ নেই।

Back to top button