‘এদের থা’প্পড় মা’রতে মা’রতে বাড়ি থেকে বের করে দিতে হয়…’ কাদের নিয়ে ক্ষু’ব্ধ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়? রাজনীতি থেকে অভিনয় নিয়ে অকপটে অভিনেত্রী!

ভারতীয় বিনোদন জগত (Tollywood) এবং রাজনীতির এক অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Rupa Ganguly)। আশির দশকের শেষে বি.আর. চোপড়ার কালজয়ী ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ ‘দ্রৌপদী’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি জাতীয় স্তরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর সেই শক্তিশালী অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। কেবল টেলিভিশন নয়, মৃণাল সেন, অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং গৌতম ঘোষের মতো কিংবদন্তি পরিচালকদের সাথে কাজ করে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

পেশাদার জীবনের এক পর্যায়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সর্বদা স্পষ্টভাষী ও নির্ভীক থেকেছেন। পর্দার গ্ল্যামার জগত থেকে রাজপথের আন্দোলন সব ক্ষেত্রেই রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি স্বকীয়।

সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শোতে ধরা দিয়েছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি তাঁর জীবন, অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তার অভিনয়ের যাত্রা পথের নানান ঘটনা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি খুব অকপটে স্বীকার করেছেন যে, যখন তিনি ‘মহাভারত’-এ দ্রৌপদীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, তখন অভিনয়ের কোনো প্রথাগত বা টেকনিক্যাল শিক্ষা তাঁর ছিল না। তিনি কেবল চিত্রনাট্যের কথাগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন এবং নিজের ভেতরকার ইমোশন দিয়ে সেগুলো প্রকাশ করতেন। তিনি বলেন, যেমনভাবে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার সময় গানের কথাগুলো বিশ্বাস করেন, ঠিক সেভাবেই দ্রৌপদীর সংলাপগুলো বলতেন।

তাঁর মতে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে ইমোশন বা আবেগের বাইরেও যে একটা ‘টেকনিক্যাল’ দিক থাকে, সেটা তিনি অনেক পরে শিখেছিলেন। তিনি বিশেষ করে অপর্ণা সেন পরিচালিত ‘যুগান্তর’ সিনেমার কথা উল্লেখ করেছেন। এই ছবির সময়েই তিনি অভিনয়ের কারিগরি দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন হন এবং একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। রূপা নিজেকে একজন মিডিওকার বা সাধারণ মানের শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, তিনি যখন নিজের পুরোনো কাজগুলো এখন দেখেন, তখন তাঁর মনে হয় সেখানে আরও অনেক কিছু ভালো করার সুযোগ ছিল। এই যে নিজের কাজকে কঠোরভাবে বিচার করার ক্ষমতা, এটাই তাঁর বিবর্তনের অন্যতম অংশ। তিনি জানান যে তিনি নিজের কাজ নিয়ে কখনোই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন না। এমনকি তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলো যখন তিনি এখন দেখেন, তখন তাঁর মনে হয় তিনি অনেক জায়গায় ভালো অভিনয় করেননি।

আরও পড়ুনঃ খুশির দিনেও এক অপূরণীয় শূন্যতা! বছর খানিক আগেই হারিয়ে গিয়েছে বোন ঐন্দ্রিলা! দিদি ঐশ্বর্যর বিয়েতে আবেগের ছায়া আর সব্যসাচীর নীরব উপস্থিতি!

এরপর যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা যে কেন তিনি কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় মুম্বাই ছেড়ে কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন, তার উত্তর দিতে গিয়েই রূপা কাস্টিং কাউচের প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মুম্বাইয়ের সেই চকচকে গ্ল্যামার জগতের আড়ালে কিছু নোংরা প্রস্তাব তাঁর কাছেও এসেছিল। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই সেই সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, যখন কেউ কোনো নারীকে এই ধরণের অশালীন প্রস্তাব দেয়, তখন সেখানে কথা বলে সময় নষ্ট করার কিছু নেই। রূপার ভাষায়, ‘এ বলার কিছু নেই, বাড়ি থেকে বার করে দিতে হয় নয় থাপ্পড় মারতে হয়।’

Back to top button