‘শুটিং করার সময় ট্রেন ধাক্কা মেরেছিল আমাকে…সবাই পালিয়ে গিয়েছিলেন!’ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোহন ভট্টাচার্য! হাসপাতালে বসেই রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে প্রতিবাদে শামিল অভিনেতা! শোনালেন নিজের অভিজ্ঞতা!

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিউড। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। মৌন মিছিল থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া না মেলায়, আর্টিস্ট ফোরাম ৭ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক সদস্যকে একজোট হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে রাহুলের পরিবারের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করা যায়।
তবে এই সমস্ত কর্মসূচিতে দেখা যায়নি অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্যকে, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে তিনি নিজেই সেই জবাব দেন একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং কিছুদিন আগে একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সেই কারণেই তিনি কোনও মিছিল বা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও, মানসিকভাবে তিনি রাহুলের পাশে আছেন বলেই স্পষ্ট করেন অভিনেতা।
হাসপাতালের বেডে বসেই রোহন জানান, এখন তিনি আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ। একইসঙ্গে তিনি তাঁর অতীতের এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। ২০১২ সালে শুটিং করতে গিয়ে দার্জিলিং মেল ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভয় পেয়ে সেখান থেকে সরে যান, কিন্তু কিছু স্থানীয় মানুষ ও টেকনিশিয়ান তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে গভীর দাগ কেটে আছে।
রোহনের বক্তব্যে উঠে আসে শুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাবের প্রসঙ্গও। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ অনুমতি ছাড়া শুটিং হয় এবং দুর্ঘটনার দায় কেউ নিতে চায় না। তিনি বলেন, যদি সেদিন তাঁর কিছু হয়ে যেত, তাহলে হয়তো ঘটনাকে অন্যভাবে তুলে ধরা হত। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি এবং দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে চলবে না।
আরও পড়ুনঃ ‘লীনা গাঙ্গুলীর অনুমতি ছাড়া একটা পাতাও নড়ে না, তাহলে রাহুল ম’রল কীভাবে?’ অম্বরীশ-রেশমীর পাল্টা তো’প!
সবশেষে রোহন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় সবাইকে নিজেদের দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে। শুধুমাত্র মিছিলে হাঁটা বা সহানুভূতি দেখানো যথেষ্ট নয়, বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যারা একসময় ভিন্ন কথা বলেছিলেন, তারাই এখন প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। এই দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। রাহুলের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অভিনেতা।

