‘অনেকেই চেয়েছিল আমি যেন উবে যাই, লড়াই করেই টিকে আছি…!’ ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুললেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত!

টলিউডের (Tollywood) এভারগ্রিন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) মানেই পর্দায় এক উজ্জ্বল উপস্থিতি। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য চড়াই-উতরাই পার করেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কিছু ব্যক্তিগত ও গভীর অনুভূতির কথা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। যেখানে উঠে এসেছে এক লড়াকু ঋতুপর্ণার গল্প, যিনি শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন।

অভিনেত্রী জানান, কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে অনেকেই চেয়েছিলেন তিনি যেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান বা ‘উবে’ যান। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী তিনি নন। ঋতুপর্ণা স্পষ্ট জানান, তিনি বেশ লড়াই করেই নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন এবং আজও সগৌরবে টিকে আছেন। তাঁর এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, পর্দার পেছনের লড়াইটা সবসময় সহজ ছিল না, তবুও জেদ এবং পরিশ্রমের জোরেই তিনি আজ টলিউডের শীর্ষস্থানে।

জীবনের পথ চলায় অনেক প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণাও ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়। ঋতুপর্ণা আক্ষেপের সুরে বলেন, তাঁর জীবনের খুব কাছের বেশ কিছু মানুষ কর্পূরের মতো উবে গেছেন। এই হারিয়ে যাওয়াটা দুই ধরনের কেউ পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন, আবার কেউ বেঁচে থেকেও আগের মতো সেই সান্নিধ্য বা মায়া বজায় রাখেননি। প্রিয়জনদের এই আকস্মিক অনুপস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।

পরিবর্তনশীলতা নিয়ে দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, জীবনে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। সময় এবং পরিস্থিতি সব বদলে দেয়। জীবনের এই ধ্রুব সত্যকে মেনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়। যদিও সব পরিবর্তন বা বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া সবসময় সহজ হয় না, অনেক সময় তা প্রচণ্ড মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও সেই বিষণ্ণতাকে সঙ্গী করেই জীবন তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ ৮২ বছর বয়সেও মঞ্চে ছন্দা চট্টোপাধ্যায়! জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও হার না মানা অদম্য ইচ্ছা শক্তি! রিহার্সাল রুমে নতুনদের টেক্কা দিচ্ছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী!

ঋতুপর্ণার এই স্বীকারোক্তি অনুরাগীদের কাছে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সফলতার আলো ঝলমলে জীবনের আড়ালেও যে একাকীত্ব এবং লড়াইয়ের গল্প থাকে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। মানুষের আসা-যাওয়া এবং সম্পর্কের সমীকরণ বদলালেও নিজের লড়াইয়ে অবিচল থাকাই যে জীবনের আসল সার্থকতা, ঋতুপর্ণা যেন সেই শিক্ষাই দিলেন তাঁর এই বার্তার মাধ্যমে।

Back to top button