‘যাঁর ওপর ভরসা করে গেলাম, তিনিই কুপ্রস্তাব দিলেন, মেনে নিইনি তাই আর কাজই পাইনি!’ টলিউডে চলেছে এক নোংরা চক্র! নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপটে রিমঝিম গুপ্ত!

গ্ল্যামার, আলো এবং জনপ্রিয়তার আড়ালে বিনোদন জগতের অন্দরমহলে যে এক কালচে অন্ধকার লুকিয়ে রয়েছে, তা আরও একবার প্রকাশ্যে এলো। রূপোলী পর্দার ঝলমলে দুনিয়ার পেছনে কাস্টিং কাউচ বা অনৈতিক কুপ্রস্তাবের গল্প নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে বহু অভিনেত্রীই এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে টলিউডের এমনই এক অন্ধকার ও রূঢ় বাস্তব নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী রিমঝিম গুপ্ত (Rimjhim Gupta)। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অভিনেত্রী রিমঝিম গুপ্ত বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। ২০০৩ সালে ‘রাস্তা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কেরিয়ার শুরু করে ‘পিতা’, ‘বেদেনী’, ‘মহানন্দা’র মতো সিনেমা এবং একাধিক জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। রিমঝিম কেবল নিজের অভিনয় দক্ষতার জোরেই ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে এই দীর্ঘ কেরিয়ারের পথটি যে তাঁর জন্য একেবারেই মসৃণ ছিল না, বরং তাঁকে পদে পদে নানা নোংরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে, সেই সত্যিটাই এবার অকপটে স্বীকার করে নিলেন অভিনেত্রী।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সেই সাক্ষাৎকারে রিমঝিম জানান, শুটিং ফ্লোরে কাজ করার সময় অনেক সময়ই চরম বিশ্বাসভঙ্গের মুখোমুখি হতে হয়। যে মানুষটির ওপর ভরসা করে ফ্লোরে যাওয়া যায়, সেই মানুষটিই আচমকা কোনো এক কুপ্রস্তাব বা অনৈতিক দাবি নিয়ে সামনে হাজির হন। ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরণের ‘বাজে প্রস্তাব’ নতুনদের পাশাপাশি অনেক অভিজ্ঞদেরও ফেস করতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, একেবারে যে তাঁর সাথে এমন ঘটনা ঘটেনি, তা কিন্তু নয় তাঁকেও কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে এই চরম তিক্ত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছিল।

সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, এই ধরণের অনৈতিক ও নোংরা প্রস্তাবে কোনো অভিনেত্রী রাজি না হলে তাঁর ওপর নেমে আসে নানা অদৃশ্য প্রতিশোধ। রিমঝিম জানান, কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁদের ক্ষমতার দাপট বা ‘করাপশন’ দেখাতে শুরু করেন এবং সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে অভিনেত্রীর কাজের ওপর। কখনো চলন্ত কাজ বা গল্প থেকে চরিত্রটিকে রাতারাতি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, আবার কখনো অভিনয় করার পরেও ফাইনাল এডিটিংয়ের টেবিলে কাঁচি চালিয়ে অভিনেত্রীর দৃশ্যগুলো পুরোপুরি কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, যা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।

আরও পড়ুনঃ ‘মা কালীই আমাকে বাঁচিয়েছেন, যদি সেদিন কিছু হয়ে যেতো…’, ‘অন্যায় করলে প্রকৃত শাস্তি হোক, কিন্তু…’ রুপোলী পর্দার পেছনে নিজের জীবনের এক অদ্ভুত গল্প শোনালেন রূপা গাঙ্গুলী!

রিমঝিম এই প্রত্যাখ্যানের সুদূরপ্রসারী পরিণতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে কোনো একটি অনৈতিক প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেননি বা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, আর তার মাশুল হিসেবে সেই নির্দিষ্ট টিম, পরিচালক বা প্রযোজকের সাথে তিনি পরবর্তীতে আর কখনোই পুনরায় কাজ করার সুযোগ পাননি। টলিউডে নিজের কাজের অধিকার এবং আত্মসম্মান টিকিয়ে রাখতে গিয়ে যে বহু কাজের সুযোগ হারাতে হয়েছে, তা রিমঝিমের কথাতেই পরিষ্কার। বিনোদন জগতের এই ক্ষমতাশালী চক্র এবং নোংরা মানসিকতার বিরুদ্ধে তাঁর এই সোজাসাপ্টা বক্তব্য আবারও প্রমাণ করল যে, ইন্ডাস্ট্রির বাইরের চাকচিক্য যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ভেতরের লড়াইটা কতটা কঠিন।

Back to top button