‘আমি পার্ভার্ট, রেনেসাঁর জন্য ওটাই দরকার!’ ‘টলিউডে আমার মতো সাহস কারোর নেই!’— ট্রোল-গালিকে পাত্তা না দিয়ে ঋ সেনের সাহসী ঘোষণা! আবার করতে চান ‘গা’ন্ডু’র মতো ছবি!

সাহসী চরিত্র, খোলামেলা ন’গ্নতা আর সাংস্কৃতিক ধাক্কা—এই তিনে মিলে এক অনন্য নাম অভিনেত্রী ‘ঋ সেন’ (Rii Sen)। টলিউডে ইন্ডিপেনডেন্ট সিনেমার পরিধিতে তাঁর নাম শুনলেই যেন বিতর্ক আর ভ্রুকুটি একসঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মূলত ২০১০ সালের ‘গা’ন্ডু’ (Gandu) ছবিটি দিয়ে তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে আসেন। তবে ঋ সেন এত বছর পরেও ঠিক যেভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন, তা অবিশ্বাস্য।
বাংলা ছবির ভাষা, ভঙ্গি, ন’গ্নতা এবং রূঢ় বাস্তবতার গায়ে বেমালুম ধাক্কা দিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালক ‘কৌশিক মুখার্জি’ (কিউ) এবং অভিনেত্রী ঋ সেন। পর্দায় ঋ-এর উল’ঙ্গতা যেন পুরো বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মুখোমুখি এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। আর আজও সেই ধাক্কা থেকে বেরোতে পারেনি অনেকে। ঋ বলেন, “দশ বছর পার হলেও ‘গা’ন্ডু’ এখনও মানুষের মনে বিতর্ক উস্কে দেয়। অথচ যারা আমাকে ‘প’র্ন’স্টার’ বলে গাল দেয়, তারাই লুকিয়ে আমার ছবি দেখে।”
ঋ সেনের মতে, সমাজ তার সাহসী সিদ্ধান্তকে এখনও গ্রহণ করতে শেখেনি। এমনকি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে তাকে ‘নির্লজ্জ’ আখ্যা দিয়েও সরে গেছেন অনেকে। তবে অভিনেত্রীর সোজাসাপটা উত্তর— তিনি নিজের সাহস নিয়ে গর্বিত। “আমি মনে করি টলিউডে এই ধরনের সাহসের অভাব রয়েছে। আমি ব্যতিক্রমী ছবিই করব, কারণ রিস্ক না নিলে ইতিহাস হয় না।” শুধু তাই নয়, তিনি জানান, যদি ভবিষ্যতে আবার ‘গা’ন্ডু’-র মত ছবিতে আগ্রহ নিয়ে অভিনয় করবেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ঐ সেই একান্নবর্তী পরিবারের ঝগড়া আর ভালোবাসার গল্প আমার একদম পছন্দ না! আমি চাই মানুষ এর বাইরে কিছু দেখুক, জানুক সমাজে কিছু ‘পা’র্ভার্ট’ লোকও আছে!” এই সাক্ষাৎকারে ঋ-র কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, ছিল কটাক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ছাপ। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে ‘পা’র্ভার্ট’ মনে করি, আমার ধারণা ওটা না হলে ঐতিহাসিক রেনেসাঁ গড়ে তোলা যায় না! বিশ্বে যে রেনেসাঁ হয়েছে, আজ পর্যন্ত সব পা’র্ভার্ট লোকেদের উদ্যোগে।
আরও পড়ুনঃ ‘বড়পর্দা আমায় ভুলে গেছে, ছোটপর্দাও মুখ ফিরিয়েছে’, ‘জীবনের শেষ দিনটাও অভিনয় করতে চেয়েছিলাম’— আক্ষেপে আজও ভাঙে দেবিকা মিত্রর মন! উত্তম কুমারের নায়িকা, কিন্তু কেউ ডাকে না আর!
আমি মনে করি টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আমার মতো পারদর্শিতা কারোর নেই এই ক্ষেত্রে! কটাক্ষ যতোই আসুক, আমি ব্যতিক্রমী ছবিই করবো!” তিনি বিশ্বাস করেন, সংস্কার ভাঙার জন্য সমাজে ‘অস্বস্তিকর’ চরিত্রদের প্রয়োজন। অবশেষে ঋ জানিয়ে দেন, তিনি আর পাঁচটা ছাঁচে ঢালা নায়িকার মত নন। তিনি নিজের আদর্শে তৈরি এক আলাদা ঘরানার নাম। এবং এই নাম নিয়ে যতই তর্ক হোক না কেন— বাংলা সিনেমার ইতিহাসে থেকে যাবে।

