তিন বছরে তিন প্রিয়জনকে চিরবিদায়! ডিপ্রেশন জয় করে আবার কাজে ফেরা! টলিউড পলিটিক্সের শিকার থেকে বিনোদন জগতে রেশমী ভট্টাচার্যের টিকে থাকার লড়াই! জেনে নিন সেই অজানা অধ্যায়!

টলিউডের পরিচিত মুখ রেশমী ভট্টাচার্য। একসময় রুপালি পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আলোচনায়, তবে এবার কোনো সিনেমার গল্পের জন্য নয়, বরং নিজের জীবনের কঠিন বাস্তব ও লড়াইয়ের কাহিনি নিয়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া একের পর এক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথা। ২০২২ সালে মা, ২০২৩ সালে বাবা এবং ২০২৪ সালে নিজের প্রিয়তম স্বামীকে হারিয়ে আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে সুস্থ-সবল স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু রেশমীর জীবনের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই শোক সামলাতে তিনি দীর্ঘ সময় অভিনয় জগৎ থেকে দূরে ছিলেন এবং নিজেকে একলা চলার লড়াইয়ে প্রস্তুত করেছেন।
রেশমীর ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল রূপকথার মতো। ‘কলকাতা সুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় বিপাশা বসুর মতো তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে রানার-আপ হয়ে গ্ল্যামার জগতে পা রাখেন তিনি। এরপর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল ও অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মতো মেগাস্টারদের বিপরীতে কাজ করে নজর কেড়েছিলেন। কিন্তু সাফল্যের মধ্যগগনে থাকাকালীন তাকে ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতির শিকার হতে হয়। রেশমীর দাবি, কোনো এক ‘অদৃশ্য আপস’ করতে রাজি না হওয়ায় তার নামে মিথ্যে রটনা তৈরি করা হয়েছিল। তাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য শুটিংয়ে দেরি করে আসার মতো অপবাদ দেওয়া হয়, যা তিনি কঠোর পরিশ্রম দিয়ে মিথ্যা প্রমাণ করেছিলেন।
বাংলার ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা সংকুচিত হওয়ায় হার মানেননি রেশমী। তিনি পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে। সেখানে ভোজপুরি সিনেমা এবং নামী দামী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। পরে কলকাতায় ফিরে তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন নেতিবাচক বা ‘ভিলেন’ চরিত্রে। ‘৫১বর্তী’ সিরিয়ালের মাধ্যমে তার এই ভিলেন অবতার দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রেশমী মনে করেন, একটি গল্পে ভিলেন যত শক্তিশালী হয়, নায়ক বা নায়িকার চরিত্র তত বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অভিনয়ের প্রতি এই নিখাদ ভালোবাসা আর পেশাদারিত্বই তাকে বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও টিকিয়ে রেখেছে।
বর্তমানে এই অভিনেত্রী এক বিশাল ফ্ল্যাটে সম্পূর্ণ একা থাকেন। তবে তার কাছে ‘একা থাকা’ মানে মোটেও ‘একাকিত্ব’ বা লোনলিনেস নয়। তিনি মনে করেন, মানুষ যখন নিজের প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠে, তখন অন্য কারো ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। রেশমী এখন বাগান করা, পশুপাখিদের খাওয়ানো এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকতে ভালোবাসেন। তার মতে, মানুষের মধ্যে যে লোভ আর হিংসা থাকে, প্রকৃতির সন্তানদের মধ্যে তা নেই। এই মানসিক প্রশান্তিই তাকে আগের চেয়ে আরও বেশি ফিট এবং উজ্জ্বল করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ও দুর্ধর্ষ সুন্দরী…ওই দিনটা কখনো ভুলবো না!’ মুনমুন সেনকে নিয়ে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণ! রহস্যময়ী সুন্দরীকে নিয়ে কি কি বললেন অভিনেতা?
জীবনের এতগুলো ঘাত-প্রতিঘাত পার করার পর রেশমী এখন বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে বিশ্বাসী। ভবিষ্যতে কোনো নতুন সম্পর্ক বা বিয়ের কথা তিনি ভাবছেন না; বরং নিজের কাজ আর ফেলে আসা সুন্দর স্মৃতিগুলো নিয়েই খুশিতে থাকতে চান। কোনো সিম্প্যাথি বা সহমর্মিতা নয়, বরং নিজের মেরিটে বা যোগ্যতায় তিনি দর্শকদের মনে জায়গা ধরে রাখতে আগ্রহী। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়েছেন, তাদের ভালোবাসাই তাকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দিয়ে আবারও বাঁচার শক্তি জুগিয়েছে। রেশমী ভট্টাচার্যের এই হার না মানা জীবনযুদ্ধ আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ।

