‘নিরাপত্তা ছিল না এটা মানতে নারাজ!’ টলিউডের সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক রাজ চক্রবর্তী!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগৎ। গত ২৯শে মার্চ ওড়িশার তালসারিতে শ্যুটিং চলাকালীন জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু কেবল শোকের ছায়া নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই আবহে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন পরিচালক তথা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সেটে নিরাপত্তা ছিল না একথা তিনি মানতে নারাজ। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ইন্ডাস্ট্রির সকলের চোখ খুলে দিয়েছে এবং এখন থেকে সুরক্ষা প্রোটোকল আরও উন্নত করার সময় এসেছে।
রাজ চক্রবর্তী একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে, এতদিন পর্যন্ত টলিউডে যা কাজ হয়েছে, তা নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিরাপত্তা মেনেই হয়েছে। শ্যুটিংয়ের সময় অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সবসময়ই কিছু প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়। তাঁর মতে, “সেফটি সিকিউরিটি ছিল না এটা আমি মানতে নারাজ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকার মাঝেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন খবরের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে যদি আরও বেশি আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন হয়, তবে তা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম থেকে শুরু করে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স। শনিবার ফোরামের পক্ষ থেকে ওই মেগা সিরিয়ালের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, উত্তাল সমুদ্রের ধারে শ্যুটিংয়ের সময় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড বা জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে রাহুলের ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণ বালি ও লোনা জল পাওয়া গিয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে আটকে থাকার ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরা এখন বিচার ও কঠোর সুরক্ষা বিধির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের প্রাণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আগামী মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শ্যুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম’। গত রবিবার এক জরুরি বৈঠকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় সহ ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইনডোর ও আউটডোর শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে নিখুঁত সুরক্ষা নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও কাজ হবে না। এই কর্মবিরতির ফলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যেতে চলেছে টলিউডের সমস্ত কাজ।
আরও পড়ুনঃ ‘সহজ তুমি আমাকে কখনও দেখনি, তুমি আমার…’ রাহুল ব্যানার্জির ১৩ বছরের ছোট্ট ছেলেকে অর্ক গাঙ্গুলীর বার্তা! সহজকে কি বললেন লীনা গাঙ্গুলীর ছেলে?
টলিউডের ইতিহাসে এর আগেও শ্যুটিং সেটে দুর্ঘটনার নজির রয়েছে, তবে রাহুলের মৃত্যু যেন এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তাঁরা ঘর থেকে শ্যুটিংয়ে বেরোন ঠিকই, কিন্তু নিরাপদে ফিরবেন কি না তার কোনও নিশ্চয়তা পান না। রাজ চক্রবর্তীর মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন যে প্রোটোকল ছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ের দাবি অনুযায়ী প্রযুক্তি ও সুরক্ষার আরও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে সব পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এই জট কাটলে বাংলা বিনোদন জগতের জন্য কী নতুন সুরক্ষা নীতি সামনে আসে।

