ভয়াবহ স্মৃতি, মানসিক লড়াই! য’ন্ত্রণায় ছটফট করছে শরীর! মৃ’ত্যু ভয়? কি চলছে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে?

বাংলা সিনেমার জগতে সাইকোথ্রিলার ধারা বরাবরই দর্শকের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এবার সেই ধারারই নতুন সংযোজন হিসেবে আসছে পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি “অটবী”। এই সিনেমা দুই বোনের সম্পর্ক, অতীতের ভয়াবহ স্মৃতির প্রতিফলন এবং জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে গল্প বলবে। প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের সামনে যে অজানা বিপদ অপেক্ষা করে, সেটিই “অটবী”-র মূল উপজীব্য।
ছবির কেন্দ্রে একজন নারীর মানসিক লড়াই এবং নিখোঁজ বোনকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তার যন্ত্রণার গল্প। তার খোঁজ তাকে একটি অভিশপ্ত এবং নিষিদ্ধ জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় যেখানে অতীতের ট্রমা ক্রমশ তার উপর প্রভাব ফেলে। বাস্তবতা ও বিভ্রমের সীমারেখা যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, এবং দর্শক চোখে মুখে অনুভব করতে পারে নায়িকার ভয়, উদ্বেগ এবং হতাশা।
“অটবী”-তে অভিনয় করছেন মধুমিতা সরকার, ইনায়া চৌধুরী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরিয়ান ভৌমিকসহ আরও অনেকে। পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “এই ছবি শুধু নিখোঁজ মানুষকে খোঁজার গল্প নয়। এটি মানুষের মনের গভীর গোলকধাঁধায় প্রবেশের গল্প যেখানে ভালবাসা কখনও কখনও দমবন্ধ করতে পারে এবং নিরাপত্তা পরিণত হতে পারে বন্দিদশায়। চিত্রনাট্য দর্শকের বাস্তবতার ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।”
ছবির সেটিং বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। চামসুত্তি জঙ্গল শুধু প্রেক্ষাপট নয় বরং একটি চরিত্র, যা নায়িকার ভেঙে পড়া মানসিক অবস্থাকে প্রতিফলিত করে। পরিচালক জানাচ্ছেন, এই জঙ্গল দর্শককে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে নিয়ে যাবে। ভয়ের উৎস শুধুমাত্র জাম্পস্কেয়ার নয়, বরং গভীর অরণ্যের ক্লাস্ট্রোফোবিয়া এবং মানুষের মানসিক দ্বন্দ্ব একে পরাবাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করবে।
আরও পড়ুনঃ ‘ঘন ঘন রূপ বদলায় সোহিনী…’- কোন কোন রূপে অভিনেত্রীকে দেখেছেন পরিচালক প্রতিম? হঠাৎ এই মন্তব্যের কারণ কি?
সিদ্ধি বিনায়ক ক্রিয়েশনস প্রযোজিত এই ছবি অন্যান্য থ্রিলারের থেকে আলাদা। পরিচালক সৌমাভর মতে, “ডিম্পল যখন ওষুধ ছাড়াই নো এন্ট্রি জোনের গভীরে প্রবেশ করে, তখন সাধারণ তদন্ত থেকে এটি পরাবাস্তব দুঃস্বপ্নে রূপান্তরিত হয়। দর্শকরা শুধু একটি রহস্য সমাধান দেখবে না, বরং মানুষের মনের অন্ধকার কোণগুলোও অনুভব করবে।” “অটবী” তাই বাংলার থ্রিলার ধারাকে নতুন মাত্রা দেবে এবং দর্শককে অভিজ্ঞতার এক নতুন সীমায় নিয়ে যাবে।

