‘বাবার মৃ’ত্যু দেখে আমার বুকে এসে আমাকে জাপটে ধরে অঝরে কেঁদেছিল!’ রাহুলের মঞ্চস্থ নাটক দেখে ঠাম্মির বুকে মাথা রেখে কেঁদেছিল ছোট্ট সহজ! নিয়তির পরিহাসে বাস্তবেও বাবাকে চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলল সে!

বাংলা চলচ্চিত্র (Tollywood) এবং টেলিভিশন জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) হঠাৎ চলে যাওয়া যেন এক অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য মনে রাখার মতো চরিত্র উপহার দিয়েছেন। কিন্তু পর্দার এই নায়কের বাস্তব জীবনের গল্পটি ছিল অনেক বেশি আবেগপ্রবণ এবং কখনো কখনো বেশ চড়াই-উতরাই সমৃদ্ধ। বিশেষ করে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক টলিউডের অন্দরে সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার সেট থেকে শুরু হওয়া সেই প্রেম পরিণয় পেলেও পরবর্তীকালে তা বিচ্ছেদের পথে হাঁটে, যা ভক্তদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিগত জীবনে হাজারো টানাপোড়েন থাকলেও তাঁদের একমাত্র সন্তান ‘সহজ’ ছিল তাঁদের জীবনের ধ্রুবতারা। সহজের সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় এবং বন্ধুর মতো। রাহুল প্রায়শই সমাজমাধ্যমে সহজের সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের ছবি শেয়ার করতেন। সহজের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা তাঁদের তিক্ততা ভুলে মাঝেমধ্যেই কাছাকাছি আসছিলেন, যা দেখে অনেকেই আশা করেছিলেন হয়তো এই জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে। সহজের জন্য বাবার প্রতি ভালোবাসা ছিল নিঃশর্ত, যার ছাপ পাওয়া যায় তাঁর প্রতিটি ছোট ছোট আবদারে।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রাহুলের মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায় সহজের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতিচারণ করেছেন। রাহুল অভিনীত একটি বিখ্যাত নাটক ‘যে জানালাগুলোর আকাশ ছিল’-তে রাহুলের চরিত্রটি নাটকের শেষে মারা যায়। নাটকটি দেখতে গিয়ে যখন সহজ দেখে যে তার বাবার চরিত্রটি মারা যাচ্ছে, তখন সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাবার এই পর্দার মৃত্যু সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি এবং বারবার প্রশ্ন করেছিল কেন তাঁর বাবা এমন চরিত্র বেছে নিলেন। একরত্তি সহজের সেই আবেগপ্রবণ মুহূর্তটি আজ যেন এক নির্মম পরিহাস হয়ে দেখা দিয়েছে। রাহুলের মা জানায় মঞ্চে রাহুলকে মারা যেতে দেখে তার কোলে এসে তাকে জাপটে ধরে তার কাছে কান্না করেছিল সহজ। সেই কান্না আজও তার বুকের মধ্যে বাজে।
কয়েক মাস আগে, ২৯শে মার্চ ২০২৬ তারিখে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাহুলের হঠাৎ মৃত্যু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে. ওড়িশার তালসারিতে একটি টেলিভিশন প্রকল্পের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি টলিউডে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং শুটিং লোকেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে যে মানুষটি কিছুদিন আগেও পর্দার কাল্পনিক মৃত্যু দেখে সহজের কান্না মুছিয়ে দিচ্ছিলেন, আজ তাঁর বাস্তব প্রয়াণে পুরো পরিবার ও ভক্তকুল শোকে মুহ্যমান।
আরও পড়ুনঃ আবারো গোস্বামী বাড়িতে বিপদের ছায়া! একজোট চার অশুভ শক্তি! গোরা-দিতি কি পারবে এই ভয়ানক ষড়’যন্ত্র রুখতে?
রাহুলের প্রয়াণ শুধুমাত্র একজন দক্ষ অভিনেতার প্রস্থান নয়, বরং এটি একটি অসম্পূর্ণ গল্পের শেষ অধ্যায়। তাঁর মা, প্রাক্তন সঙ্গী প্রিয়াঙ্কা এবং ছোট্ট সহজের জীবনে এই শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। টলিউড ইন্ডাস্ট্রি আজও তাঁর সেই প্রতিভাবান অভিনয় এবং সদালাপী ব্যক্তিত্বের কথা মনে করে অশ্রুসিক্ত হয়। সহজের কাছে তাঁর বাবা আজ এক স্মৃতি, যা হয়তো কোনো একদিন সেই ‘টুবাইদা’র মতো এক মহান নায়কের গল্প হয়েই বেঁচে থাকবে তাঁর হৃদয়ে।

