‘ওর মাকে তো জানতে হবে, ছেলেটা কেন চলে গেল?’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে ফুঁসছে বাংলা! তদন্তের দাবিতে সরব কৌশিক ও রেশমি সেন!

মাত্র বিয়াল্লিশ বছর বয়সে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু যেন এখনও মেনে নিতে পারছে না টলিউড। তালসারিতে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, অতিরিক্ত নোনা জল ও বালি শরীরে প্রবেশ করায় তাঁর ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। এই ভয়াবহ তথ্য সামনে আসতেই আরও গভীর হয়েছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন।
ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। একেকজন একেক রকম বয়ান দিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই অবস্থায় রাহুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিনেতা কৌশিক সেন, রেশমি সেন ও ঋদ্ধি সেন। সেখান থেকে ফিরে তাঁরা জানান, রাহুলের মা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং ছেলে সহজের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, এই শোকের কোনও ভাষা নেই। একটি ভরা সংসার কীভাবে মুহূর্তে শূন্য হয়ে যায়, সেই বাস্তবতা তাঁদের নাড়িয়ে দিয়েছে।
কৌশিক ও রেশমি সেন স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, এই মৃত্যুকে ঘিরে যে অসংগতি সামনে আসছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের কথায়, প্রত্যেকের বক্তব্য আলাদা হওয়ায় সত্যিটা আরও আড়ালে চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, একজন মায়ের জানার অধিকার আছে তাঁর ছেলে ঠিক কীভাবে মারা গেল। রাহুল কি শুটিং করছিলেন, না কি নিজেই জলে গিয়েছিলেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা রয়ে গেছে।
রেশমি সেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, রাহুলের মায়ের অবস্থা দেখলে বোঝা যায় এই শোক কতটা গভীর। গোটা বাড়ি জুড়ে ছেলের স্মৃতি, ছবি আর লেখায় ভরা। তিনি বলেন, আমরা হয়তো এটাকে দুর্ঘটনা বলছি, কিন্তু এর দায় তো কেউ না কেউ নিতেই হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নগুলো হারিয়ে যাবে না তো, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। কৌশিক সেনও বলেন, শিল্পীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্টিস্ট ফোরামের দায়িত্ব রয়েছে এই ঘটনার সত্যতা খুঁজে বের করার।
আরও পড়ুনঃ ‘বাবার অ’স্থি হাতে নিয়ে ওই ছোট্ট শিশুর মনে একটাই প্রশ্ন…’ ১৩ বছর বয়সেই দুনিয়ার ন’গ্ন রূপ দেখছে এক কিশোর! রাহুলের মৃ’ত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসলেন ঋদ্ধি সেন!
প্রসঙ্গত, দুই দশকের বেশি সময় ধরে টলিউডে কাজ করেছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছোটপর্দা, বড়পর্দা থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ সব ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন কাড়ছিল। পাশাপাশি ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’ ও ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ সিরিজেও নজর কেড়েছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ‘সহজ কথা’ নামে একটি পডকাস্টও করতেন। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে যেমন তৈরি হয়েছে গভীর শোক, তেমনই রেখে গেছে বহু অজানা প্রশ্নের ভার।

