‘আমি ওকে রাহুল নয়, ‘বাবিন’ বলে ডাকতাম, সেই বাবিন আর নেই?’ ভেঙে পড়লেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী! রহস্যে ঘেরা অভিনেতার মৃ’ত্যুতে থমকে গেছে বিনোদন জগৎ!

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। কারও কাছে তিনি রাহুল, আবার কারও কাছে স্নেহের ‘বাবিন’। বন্ধু, সহকর্মী, পরিবার সকলের কাছেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। হঠাৎ এই চলে যাওয়ার খবর যেন কেউই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর কাছের মানুষদের কথায় স্পষ্ট, এই ক্ষতি শুধু একজন অভিনেতার নয়, এক অত্যন্ত আপন মানুষের হারানোর যন্ত্রণা।
অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী নিজের আবেগ সামলাতে না পেরে বলেন, রাহুলকে নিয়ে অতীত কালে কথা বলা তাঁর পক্ষে এখনই সম্ভব নয়। দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্ক তাঁদের। তিনি জানান, রাহুল তাঁর কাছে শুধুই সহকর্মী নন, ভাইয়ের মতো। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর কথায় স্পষ্ট অসহায়তা। অন্যদিকে বিদীপ্তা চক্রবর্তী জানান, এই খবর শোনার পর তিনি ভেঙে পড়েছেন। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, রাহুল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, শিক্ষিত এবং ভালো মনের মানুষ।
পরিচালক ও অভিনেতা অঞ্জন দত্তও এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, এত অল্প বয়সে এমন একটি দুর্ঘটনা সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। রাহুল শুধু একজন ভালো অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বুদ্ধিমান এবং চিন্তাশীল মানুষ। তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, কথা বলা সবসময়ই আনন্দের ছিল। এমন একজন মানুষের হঠাৎ চলে যাওয়া তাঁকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে সহঅভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় উঠে এসেছে অবিশ্বাস। দুর্ঘটনার দিন সকালেও একসঙ্গে শুটিং করেছিলেন তাঁরা। কিছু ঘণ্টার মধ্যেই এমন দুঃসংবাদ শুনতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁর কথায়, এই ঘটনা এখনও অবিশ্বাস্য লাগছে এবং তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। এত কাছের একজন মানুষকে হঠাৎ হারানোর শোক তিনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার ভাগের সবকটা নদী, পাহাড়, জঙ্গল তোমায় দিলাম…’ ছেলে সহজকে লেখা অভিনেতার শেষ চিঠিতে আবেগে ভাসছে টলিপাড়া! বাবার চলে যাওয়া কি মেনে নিতে পারবে সহজ?
এদিকে রাহুলের মৃত্যুর তদন্তও শুরু হয়েছে। তাঁর দেহ তমলুক মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। যেহেতু ঘটনাস্থল তালসারি ওড়িশার অন্তর্গত, তাই ওড়িশা পুলিশও তদন্তে নজর রাখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এখন অপেক্ষা সকলের, তবে তার আগেই একটাই কথা বারবার ফিরে আসছে—এমন বিদায় কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

