‘উনি তো অনেক ভূগোল জানেন, নিজের ছেলেকে জেতাতে পারলেন না কেন?’ ‘সংসদের ভেতর নারীদের সম্মান দিতে জানেন না!’ ‘মুখের ভাষা অত্যন্ত খারাপ,’ কল্যাণ ব্যানার্জিকে একহাত নিলেন রচনা ব্যানার্জি!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় ও প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মন জয় করেছেন রচনা ব্যানার্জি (Rachna Banerjee)। রুপোলি পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দায় রিয়্যালিটি শো-এর সঞ্চালক হিসেবেও তিনি ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নাম। তবে বিগত লোকসভা নির্বাচনে রাজনীতির ময়দানে পা রাখার পর থেকে তাঁর জীবনের অধ্যায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নন, একই সাথে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সাংসদও বটে। পর্দার ইমেজ ছেড়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলেও নিজের এক স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করতে লড়াই চালাচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি হুগলির এই তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরই দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি কল্যাণবাবুর আচরণ ও মুখের ভাষা নিয়ে অত্যন্ত কড়া সমালোচনা করেন। রচনাদেবীর অভিযোগ, সংসদের ভেতরেও কল্যাণবাবু নারীদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন করতে পারেন না। এমনকি অপর এক সম্মানীয় নারী সাংসদ মহুয়া মৈত্রের প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে চিৎকার করে অত্যন্ত কটু ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রচনাদেবী সাধারণ মানুষের রায় ও দলের দুর্নীতি প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন। তিনি জানান যে, দলের ভেতরের একের পর এক দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল, তা আজ মানুষের সামনে চলে এসেছে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ সব বোঝেন এবং তাঁরা মোটেই বোকা নন। এই কারণেই মানুষ আজ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যার প্রভাব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক স্তরে।

নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাক গলানো নিয়েও তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন এই তারকা সাংসদ। কল্যাণবাবুর হুগলির ভূগোল সংক্রান্ত কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়ে রচনাদেবী প্রশ্ন তোলেন, কল্যাণবাবু নিজে হুগলির এত ভূগোল এবং আটঘাট জানা সত্ত্বেও উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে নিজের ছেলেকে কেন জেতাতে পারলেন না? নিজের কেন্দ্র সামলাতে না পেরে কল্যাণবাবু কেন বারবার ওঁর কেন্দ্রে এসে মাতব্বরি করছেন, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ গুরুতর অসুস্থ গায়ক? এলোমেলো চেহারায় ডাক্তারের চেম্বারে অরিজিৎ সিং! কি হয়েছে তাঁর? উদ্বেগে অনুরাগীরা!

সবশেষে, কাজের নিরিখে বর্ষীয়ান এই নেতাকে সরাসরি এক বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নিজের সংসার, সন্তান এবং শুটিং সামলেও তিনি গত দুই বছরে সাংসদ হিসেবে নিজের এলাকায় প্রচুর কাজ করেছেন এবং মানুষের পাশে থেকেছেন। কল্যাণবাবু সাংসদ হওয়ার প্রথম দুই বছরে ঠিক কী কী কাজ করেছিলেন, তা যেন খতিয়ান সহ সামনে এনে দেখান। কোনো নোংরা বা কটু কথার লড়াইয়ে না গিয়ে, আগামী দিনেও তিনি শুধুমাত্র কাজের নিরিখেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান বলে দৃঢ় বার্তা দেন।

Back to top button