‘আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল, এটা একদম…’- ‘ক্ষুদিরাম’ বিতর্কে রাজের পাশে নেই রচনা! সচেতনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক! কিভাবে লড়ছেন রাজ চক্রবর্তী?

রাজ চক্রবর্তীর জীবনে যেন একের পর এক সমস্যার ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সদ্য মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবি হোক কলরব ঘিরে প্রথমেই বিপাকে পড়তে হয় পরিচালককে, যখন ছবির কিছু দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে না দিতেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ছবির টিজার প্রকাশের পর। টিজারের একটি সংলাপ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে প্রবল আলোচনা, যা ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে।
টিজারে দেখা যায়, পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় একটি সংলাপে বলেন, আমি ক্ষুদিরাম চাকী, আমি ঝুলি না, ঝোলাই। এই সংলাপ প্রকাশ্যে আসতেই বহু মানুষের দাবি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের দুই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর নাম ব্যবহার করে তাঁদের অসম্মান করা হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত আবেগে আঘাত লেগেছে বলেই মত অনেকের। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই ক্ষোভ এবং তা নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
এই প্রসঙ্গে রাজ চক্রবর্তী নিজে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংলাপ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং পরিকল্পিত। রাজের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি বিজেপির সাজানো ইস্যু ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ছবিকে লক্ষ্য করে এই বিতর্ক উসকে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যে সকলেই যে সহমত, তা নয়। বরং একই দলের আর এক জনপ্রিয় মুখ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে উঠে এল ভিন্ন সুর।
সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর মতে এই ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত ছিল পরিচালকের। বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সামান্য ভুল বা অসতর্কতা থেকেই বড় ইস্যু তৈরি হয়ে যায়। আগে হয়তো এমন নাম ব্যবহার হলেও এত আলোচনা হত না, কারণ তখন সোশ্যাল মিডিয়া এত সক্রিয় ছিল না। তিনি নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে জানান, বাবার নাম রবীন্দ্রনাথ হওয়ায় ছোটবেলায় নানা মজা শুনতে হলেও তখন তা নিয়ে এত বিতর্ক হত না।
আরও পড়ুনঃ ‘আবারও ভালোবাসা আমায় ছেড়ে…’- ভাঙা গড়ার মাঝেই নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেলেন মিশমি! কেমন ছিল তাঁর দুই হাজার পঁচিশ?
সবশেষে রচনা স্পষ্ট করেন, সমাজে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে তিনি মনে করেন, রাজ চাইলে সংলাপে অন্য নামও ব্যবহার করতে পারতেন। আজকের দিনে সকলকেই আরও বেশি ভাবনাচিন্তা করে চলতে হবে। তবে মানুষ মাত্রই ভুল করে, তাই এই বিষয়টি নিয়ে অকারণে জল ঘোলা না করাই শ্রেয়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজের পাশে দাঁড়ানোর বদলে তিনি সচেতনতার দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন।

