‘খেতে দিলে খেয়েই যায় খেয়েই যায়…ওর মেকআপ রুমে গিয়ে আমি অবাক!’ শুটিং সেটে রচনা ব্যানার্জিকে কোন অবস্থায় দেখেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? অভিনেত্রীকে নিয়ে অকপটে টলিউডের “বুম্বা দা”!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির ‘এভারগ্রিন’ জুটি হিসেবে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি (Prosenjit Chatterjee)রচনা ব্যানার্জির (Rachna Banerjee) নাম সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকে। পর্দায় তাদের রসায়ন যতটা গভীর, পর্দার বাইরেও তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ততটাই মজবুত। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি রচনার কর্মজীবন এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন, যা বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি জানান যে, তিনি রচনা ব্যানার্জির সাথে ৩৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি রচনার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সময়ানুবর্তিতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তার মতে, টলিউডে যদি ‘প্রফেশনালিজম’ বা পেশাদারিত্বের কোনো সমার্থক নাম খুঁজতে হয়, তবে সেটি হবে রচনা ব্যানার্জি। কাজের ক্ষেত্রে তিনি কোনোদিন আপস করেন না এবং সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রচনার শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাত্রার একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে প্রসেনজিৎ বলেন যে, অভিনেত্রী নিজের ডায়েট এবং সময়ের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। সন্ধ্যা ৭টার পর তাকে কোনোভাবেই এক ফোঁটা খাবারও খাওয়ানো সম্ভব নয়। শুটিংয়ের ব্যস্ততা বা উৎসবের আমেজ কোনো কিছুই তাকে তার এই নিয়ম থেকে টলাতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে তিনি এই রুটিন মেনে চলছেন, যা তার ফিটনেস ও সৌন্দর্যের অন্যতম রহস্য।

শুটিং সেটের একটি পুরনো ও ঘরোয়া স্মৃতি মনে করে বুম্বাদা জানান, একবার চেন্নাইয়ে আউটডোর শুটিং চলাকালীন তিনি রচনার মেকআপ রুমে গিয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দেখেন যে, জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা সত্ত্বেও রচনা মেকআপ রুমের মেঝেতে বসে অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো টিফিন ক্যারিয়ার খুলে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। রচনার এই অতি সাধারণ জীবনযাপন এবং মাটির কাছাকাছি থাকার গুণটি প্রসেনজিতের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

আরও পড়ুনঃ ‘তোর মতন বন্ধু থাকাটা ভাগ্যের ব্যাপার, তুই আছিস বলেই…’ শিরিনের জন্মদিনে অর্কজ্যোতির আবেগঘন বার্তা! পর্দার বাইরে তাদের বন্ধুত্বে মুগ্ধ অনুরাগীরা!

আলাপচারিতার শেষে প্রসেনজিৎ মজার ছলে রচনার একটি প্রিয় খাবারের কথাও ফাঁস করেন। তিনি জানান, রচনা আম এবং যেকোনো ধরনের টক জাতীয় খাবার খেতে অসম্ভব ভালোবাসেন। সামনে টক খাবার দেখলে তিনি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এবং তৃপ্তি করে তা খেতে থাকেন। পেশাদারিত্বের আড়ালে রচনার এই সহজ-সরল এবং ভোজনরসিক সত্তাটিই তাকে ইন্ডাস্ট্রির সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছে।

Back to top button