‘বাপি চলে গেছেন, কিন্তু শেষের কবিতা আজও আমার রক্তে,’ প্রয়াত বাবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ভালোলাগার সঙ্গী হলেন মেয়ে পৌলমী বসু!

কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee) আর তাঁর মেয়ে পৌলমী বসুর (Poulomi Basu) সম্পর্কটা ছিল ঠিক যেন এক বন্ধুর মতো। বাবা ছিলেন মেয়ের আদর্শ আর পথপ্রদর্শক। সৌমিত্রবাবু আজ নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া অভিনয় আর শিল্পবোধ আজও পৌলমীর মধ্যে বেঁচে আছে। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পৌলমী এখন অভিনয়ের জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন। আসলে তাঁদের সম্পর্কটা ছিল স্রেফ বাবা-মেয়ের নয়, বরং শিল্পের এক গভীর মেলবন্ধনের। তাই আজ যখনই পৌলমী কোনও ভালো কাজে হাত দেন, সেখানে ছায়ার মতো জড়িয়ে থাকেন তাঁর বাপি।
সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ নিয়ে একটি নতুন কাজ শুরু করেছেন পৌলমী। এই কাজটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর ছোটবেলার একরাশ স্মৃতি। তিনি মনে করেন, তাঁর বাবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী আর বিকাশ রায়রা যখন শেষের কবিতা নিয়ে একের পর এক নাটক করতেন, তখন সেই মহড়াগুলো চলত তাঁদের নিজেদের বাড়িতেই। সেই ছোটবেলা থেকে বাড়ির ড্রয়িং রুমে অমিত-লাবণ্যর কথা শুনতে শুনতেই তিনি বড় হয়েছেন। ফলে শেষের কবিতা যেন তাঁর রক্তে মিশে আছে। বহু বছর পর বাবার সেই প্রিয় কাজটিতে নিজে অংশ নিতে পেরে তিনি স্বাভাবিকভাবেই খুব উত্তেজিত।
তবে এই কাজটা করতে গিয়ে পৌলমী বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে যে, এই প্রজেক্টের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি তাঁর বাবাকে ভীষণভাবে মিস করছেন। বাপির পছন্দের কাজ করতে গিয়ে বারবার পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে তাঁর। সৌমিত্রবাবুর সেই জলদগম্ভীর গলার সংলাপ আজও যেন তাঁর কানে বাজে। পৌলমীর কাছে এই কাজটা কেবল পেশাদারিত্ব নয়, বরং তাঁর বাবার স্মৃতির প্রতি এক বুক ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদন। বাবার না থাকাটা তাঁকে প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদিয়ে দিলেও, এই কাজটাই তাঁকে শক্তি দিচ্ছে।
শেষের কবিতা নিয়ে পৌলমীর এক অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গি আছে। তিনি মনে করেন, আজও আমাদের চারপাশে অমিত বা লাবণ্যর মতো মানুষ ঘুরে বেড়ায়। রবীন্দ্রনাথের এই গল্পটা আজও এতটুকু পুরনো হয়নি। তবে এবারের উপস্থাপনায় একটা বড় চমক আছে এই নাটকটি করা হচ্ছে ইংরেজি ভাষায়। পৌলমীর মতে, ইংরেজি ভাষায় করার ফলে শুধু বাঙালিরা নয়, অবাঙালি দর্শকরাও রবীন্দ্রনাথের এই কালজয়ী প্রেমের গল্পটা বুঝতে পারবেন। তিনি চান এই বিশ্বজনীন গল্পটা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে সবার হৃদয়ে পৌঁছে যাক।
আরও পড়ুনঃ প্রয়াত সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়? ভুয়ো খবরে চমকে উঠেছিল সমাজ মাধ্যম! অভিনেত্রীর প্রয়াণের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন! হঠাৎ কেন রটে গেল এমন ভয়ংকর সংবাদ? জানুন আসল সত্যিটা!
সবশেষে পৌলমী আজকের দিনের কাজের ধরন নিয়ে একটু মন খারাপও করেছেন। তাঁর মতে, ইদানীং ভালো আর মানসম্মত কাজের সংখ্যা বেশ কমে গেছে। চারিদিকে হালকা কাজের ভিড়ে ‘শেষের কবিতা’র মতো ধ্রুপদী কিছু করতে পারাটা তাঁর কাছে অনেক বড় পাওনা। তিনি মনে করেন, সোহাগ সেনের মতো গুণী মানুষেরা আছেন বলেই আজও এরকম সিরিয়াস কাজ করার সাহস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে বাবার স্মৃতি আর নিজের অভিনয় সত্তাকে এক করে এক দারুণ কিছু উপহার দিতে চলেছেন পৌলমী বসু।

