থানায় কাটত রাত, মেকআপ মাখা মুখে ফিরতেন মা! শৈশবের সেই বিভীষিকা আজও তাড়া করে বেড়ায় অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীকে!

টলিউডের (Tollywood) প্রবীণ ও গুণী অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার মা, প্রয়াত অভিনেত্রী মায়া অধিকারীর অভিনয় জীবনের এক অন্ধকার ও সংগ্রামের অধ্যায় জনসমক্ষে এনেছেন। গ্ল্যামার আর আলোর দুনিয়ার আড়ালে যে কতটা লড়াই লুকিয়ে ছিল, তা অভিনেত্রীর প্রতিটি কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পাপিয়া অধিকারী বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আশির দশকের শেষ থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল উভয় ধারার ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। কেবল বড় পর্দা নয়, যাত্রা এবং টেলিভিশনেও তার পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। তার পারিবারিক প্রেক্ষাপটও ছিল শিল্পমনা, যার মূলে ছিলেন তার মা মায়া অধিকারী।

সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তার ছোটবেলার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বেশ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। পাপিয়া অধিকারী বলেন, ‘ছোটবেলায় ভাবতাম কী, আমার মা তো অভিনয়ই করছে। আসলে মা তো সোশালিস্টিক নাটক করতেন। সে সময় যারা সোশালিস্টিক নাটক করতেন তাদেরকে থানায় আটকে রাখা হতো। হ্যাঁ, সারা রাত তারা ওখানেই থাকতেন।’ মায়ের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মা নারকেল তেল দিয়ে আর ন্যাকড়া দিয়ে মুখটা মুছতেন। এসে জড়িয়ে ধরতেন আমাকে। আমি বাড়ির সবার ছোট তো, সেই গন্ধটা আমার খুব ভালো লাগত। মানে মা ফেরত এল।’

যে রাতগুলো তার মা বাড়ি ফিরতে পারতেন না, সেই স্মৃতি মনে করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আর যেদিন যেদিন মায়েদের থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হতো, সেদিন মায়েরা মেকআপটা তুলতে পারত না। আর সেই মেকআপের নিচে চলে আসত। হ্যাঁ, মানে আমার এত খারাপ লাগত…।’ সবশেষে পাপিয়া অধিকারী বলেন, ‘মা আর সন্তানের রিলেশন না একেবারে অন্যরকম। মানে একমাত্র সন্তান জানে তার মায়ের কী কষ্ট। আর একমাত্র মা জানে তার সন্তান কতটা তাকে মিস করে, কখন, কেন এবং কীভাবে।’

আরও পড়ুনঃ বিদ্রুপ ঝেড়ে ফেলে রাতারাতি প্রশংসার জোয়ার! অভিনেত্রী মধুবনীর এক রূপ দেখে হতবাক নেটপাড়া! কী এমন করলেন তিনি?

পাপিয়া অধিকারীর এই সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর পেছনের এই পারিবারিক ও সামাজিক লড়াইয়ের গল্প সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এটি কেবল একজন অভিনেত্রীর গল্প নয়, বরং সেই সময়ের সমস্ত লড়াকু নারী শিল্পীদের প্রতি এক পংক্তি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

Back to top button