মেয়ের ৭ নম্বর বিয়েতেও মায়ের মুখে হাসি! ছেলের প্রথম বিয়েতেই মুখ শুকিয়ে গেল শুভাশিসের মায়ের? ছেলের বউকে নিয়ে খুশি নন সুস্মিতা রায়ের শাশুড়ি? দাবি দর্শকদের!

টেলিভিশন পর্দার (Bengali Television) এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy) বর্তমানে তার অভিনয় জগতের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন এবং নতুন ব্যবসাকে ঘিরেই বেশি আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি জীবনের এক নতুন ইনিংস শুরু করেছেন তিনি। সব্যসাচী চক্রবর্তীর সাথে বিচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই পেশায় ব্যবসায়ী শুভাশিস দে-র সঙ্গে সাতপাকে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। যদিও নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন এটি তার ৭ নম্বর বিয়ে, তবে অভিনেত্রী নিজে ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়েছেন এটি তার চতুর্থ বিয়ে। কিন্তু সংখ্যা নিয়ে এই টানাপড়েনের মাঝেই নতুন এক ছবিকে কেন্দ্র করে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল ট্রোল এবং সমালোচনা।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সুস্মিতা ও শুভাশিস তাদের দুই মাকে দুপাশে দাঁড় করিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে পোজ দিয়েছেন। ছবির উদ্দেশ্য ছিল দুই পরিবারের মিলন ও আশীর্বাদকে তুলে ধরা, কিন্তু নেটিজেনদের নজর কেড়েছে অন্য কিছু। ছবিতে সুস্মিতার মায়ের মুখে চওড়া হাসি থাকলেও শুভাশিসের মায়ের অভিব্যক্তি ছিল কিছুটা গম্ভীর। ব্যাস, এটুকুই যথেষ্ট ছিল সমালোচকদের জন্য। মুহূর্তেই কমেন্ট বক্স ভরে ওঠে নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন যে, ছেলের প্রথম বিয়েতে শাশুড়ি একেবারেই খুশি নন, বরং জোর করে ছবিতে পোজ দিতে হয়েছে তাকে।

ভাইরাল হওয়া এই ছবিকে ঘিরে সমালোচনার ভাষা ছিল বেশ তীক্ষ্ণ। অনেকেই লিখেছেন, “মেয়ের সাত নম্বর বিয়ে দেওয়ার পরেও মা কত খুশি, কিন্তু ছেলের প্রথম বিয়েতেই মায়ের মুখ শুকিয়ে গিয়েছে।” নেটপাড়ার বড় একটা অংশের মতে, শুভাশিসের মা হয়তো সুস্মিতাকে বৌমা হিসেবে ঠিক মেনে নিতে পারেননি, আর সেই অসন্তুষ্টিই তার চেহারায় ফুটে উঠেছে। মূলত সুস্মিতার অতীত এবং একাধিক বিয়ের ইতিহাসকে টেনেই এই ট্রোলিংয়ের সূত্রপাত। যদিও সুস্মিতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শুভাশিস তাকে তার অতীত জেনেই গ্রহণ করেছেন এবং তারা এখন সুখী।

ট্রোলিংয়ের এই ঝড়ে সুস্মিতার পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মিশেল নিয়ে প্রচুর কাটাছেঁড়া চলছে। বর্তমানে সুস্মিতা আর পাঁচটা সাধারণ অভিনেত্রীর মতো শুধুই পর্দার সামনে আটকে নেই তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। নিজের ডিজিটাল বিজনেস এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি ইন্টারনেটে যথেষ্ট সক্রিয়। বিচ্ছেদের যন্ত্রনা কাটিয়ে ৩৬ বছর বয়সে মা হওয়ার ইচ্ছা এবং থিতু হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি শুভাশিসের সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে নেটিজেনদের কাছে তার এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে ‘বিয়ের সংখ্যা’ এবং ‘শাশুড়ির অভিব্যক্তি’ অনেক বেশি মুখরোচক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি দেবো না গাড়ি, কি করবেন করে নিন…’ ভোটের কাজে দিতে হবে ব্যক্তিগত গাড়ি! রাস্তার মাঝেই প্রতিবাদে সরব অরিত্র দত্ত বণিক!

এই পুরো বিতর্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্মিতা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগেও ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন যে, যারা সমালোচনা করার তারা করবেই, তিনি নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসেন। নেটিজেনরা যতই হাসাহাসি বা জল্পনা করুক না কেন, সুস্মিতা এবং শুভাশিস আপাতত তাদের নতুন জীবন ও ব্যবসা গুছিয়ে নিতেই ব্যস্ত। শাশুড়ির অমত বা সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে ওঠা এই সমস্ত দাবি সত্যি নাকি কেবলই ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারসাজি, তা সময়ই বলবে।

Back to top button