বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে হাত ঢুকিয়ে তন্ন তন্ন করে কি খুঁজছেন মোনালি? কোন দামি জিনিসটি হারিয়ে ফেলেছেন গায়িকা?

শখের কোনও জিনিস যদি খুব প্রিয় হয়, তা হারিয়ে গেলে মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। আর যদি চোখের সামনেই সেই জিনিস হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে নোংরা বা ডাস্টবিনেও পড়ুক না কেন, একবার হলেও তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন অনেকেই। ঠিক এমনই এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী মোনালি ঠাকুরকে। সুইজারল্যান্ড সফরে গিয়ে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা প্রথমে মোটেই মজার ছিল না, তবে পরে তা স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিওতে মোনালি পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, ভোররাতে বিমানবন্দরে বেরোনোর সময় নোংরা ফেলতে ডাস্টবিনের কাছে গিয়েছিলেন। সেই সময়েই অসাবধানতাবশত তাঁর হাত থেকে খুলে পড়ে যায় একটি অত্যন্ত মূল্যবান হীরের আংটি। বুঝে ওঠার আগেই সেটি সোজা ডাস্টবিনের ভেতরে চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে শিউরে ওঠেন মোনালি, কারণ আংটিটি তাঁর কাছে শুধু দামি নয়, ভীষণ প্রিয়ও।

ভাগ্য ভালো যে আংটিটি পড়ে যাওয়ার মুহূর্তটি তাঁর চোখে পড়ে যায়। তাই এক মুহূর্তও দেরি না করে তিনি নিজেই ডাস্টবিনে হাত ঢুকিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একজন পরিচিত সেলিব্রেটি হয়েও সেই মুহূর্তে কোনও দ্বিধা কাজ করেনি তাঁর মনে। তবে কাজটা সহজ ছিল না মোটেই। নোংরা ভর্তি ডাস্টবিনে হাত ঢুকিয়ে কিছু খুঁজে পাওয়া মানসিক ও শারীরিক দুই দিক থেকেই বেশ কঠিন ছিল।

ঘটনাটি ভোরবেলায় হওয়ায় বিমানবন্দর তখন প্রায় ফাঁকাই ছিল। আশপাশে তেমন পরিচিত কেউ না থাকায় মোনালি নিজেই উদ্যোগ নেন। কিছু অচেনা মানুষ পরিস্থিতি বুঝে এগিয়ে আসেন সাহায্যের জন্য। তাঁদের সহযোগিতাতেই শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনের ভেতর থেকে সেই হীরের আংটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন মোনালি। আংটিটি হাতে পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তিনি এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ দীপিকার সঙ্গে শাহরুখের ঠোঁ’টে ঠোঁ’ট? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সমালোচনার ঝড়! ‘কিং’ ছবিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে!

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই কোচবিহারের দিনাঘাটায় একটি অনুষ্ঠানে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মোনালি ঠাকুর। মঞ্চে গান গাওয়ার সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মাঝপথে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরে একটি ভিডিও বার্তায় দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের এই অভিজ্ঞতা যেন তাঁর জীবনের আরেকটি অদ্ভুত কিন্তু মনে রাখার মতো অধ্যায় হয়ে রইল।

Back to top button