‘ফুর্তি করতে গিয়ে মানুষ মারছে আর টাকা দিয়ে সেটেলমেন্ট! মুখ্যমন্ত্রী কি…’, ঠাকুরপুকুর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিনেত্রী মানসী সিনহা!

গত রবিবার ঠাকুরপুকুর এলাকার দুর্ঘটনার খবর এখনো তরতাজা সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) জুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতে সেই দিনের বিভিন্ন ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে প্রতিদিন। সেই নিয়ে তোলপাড় নেট পাড়ার মানুষজন। ওই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত টেলিভিশনের পর্দার (Bengali Television) কিছু জনপ্রিয় মুখ পরিচালক প্রযোজক।

সিরিয়ালের টিআরপি ঊর্ধমুখী হতেই কলাকুশলীরা রাতভোর উদ্দাম পার্টি করে। দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলে পার্টির পর ওই মেগার নায়ক আরিয়ান ভৌমিকের বাড়িতে বসেছিল পার্টির পরবর্তী আসর। ভোর রাত পর্যন্ত পার্টি করার পর প্রায় বেহুঁশ প্রত্যেকেই। টলমল পায়ে অভিনেতা আরিয়ানের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ‘ভিডিয়ো বউমা’-র পরিচালক ভিক্টো, সান বাংলার কার্যনির্বাহী প্রযোজক শ্রিয়া ও ঋ। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছেন সিদ্ধান্ত দাস।

এই বিষয়ে এবারে নিজের বক্তব্য রেখেছেন অভিনেত্রী মানসী সিনহা। তাঁর কথায়, “আমার ভিক্টোকে নিয়ে না কিছু বলার নেই। কারণ, ও এমনিতেই চূড়ান্ত নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিল। ও ওই অবস্থায় গাড়ি চালিয়েছে, মানুষ মেরে ফেলেছে – এটা তো হওয়ারই ছিল। ওর তো যাবজ্জীবন হোক। কিন্তু আমার প্রশ্ন এখানে, যে ঋ যে ওখানে সবথেকে বড়, ও কেন ওই গাড়িতে উঠল? ও সবার থেকে বয়সে বড়… এটুকু ভাবনা চিন্তা নেই, যে কী হতে পারে? ওর তো সবাইকে কান ধরে গাড়ি থেকে নামানো উচিত ছিল। এই বোধ বিবেচনাটা মাথায় আসেনি মানে ও নিজেও ঠিক অবস্থায় ছিল না। কলকাতা শহরে রাত্রে কি গাড়ি পরিষেবা মেলে না? কী হতো যদি গাড়ি পরের দিন নিত? লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। আর ওই মেয়েটি, ছিঃ ছিঃ! কীভাবে গাড়ি থেকে পড়ে যাচ্ছে।”

অভিনেত্রীর কথায়, “ভাবা যায়? কেন এটা হবে কেন? মানুষের প্রাণের দাম নেই? ফুর্তি আনন্দের চোটে এতবড় ঘটনা ঘটে গেল, সেটা আবার সেটেলমেন্ট করার কথা বলছেন? কেন? মুখ্যমন্ত্রী পারেন না সেই পুলিশ এবং আইনজীবীকে সাসপেন্ড করতে? প্রাণের মূল্য তাও আবার সেটেলমেন্ট হবে? যে মানুষটি মারা গেছেন তাঁর পরিবারকে অবশ্যই টাকা দেওয়া উচিত, কিন্তু তাই বলে রফা হবে? ছিঃ! এখানে কোনও কেসের সঠিক কিছু হয় না।”

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা! হঠাৎ কি হলো অভিনেত্রীর?

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে ‘ভিডিয়ো বৌমা’-র পরিচালক সিদ্ধান্ত দাসকে। তারপর ফের আদালতে পেশ করা হবে পরিচালককে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়। ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুঠোফোনে।

Back to top button