‘আমি মানি না ওঁর কথা!’ ‘ছেলেকে বোনের দায়িত্ব নিতে শিখিয়েছি, ‘প্যাড’ তার মধ্যে একটা!’— মমতা শঙ্করের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করলেন পরিচালক মানসী! তাঁর মতে, ঋতুস্রাব নিয়ে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনও বিভাজন থাকা উচিত নয়!

ঋতুস্রাব (Menstruation) নিয়ে সামাজিক গোঁড়ামি আজও আধুনিক মানসিকতায় গভীরভাবে গেঁথে আছে। আজকের সমাজ, বিজ্ঞানের অগ্রগতি কিংবা নারী-পুরুষ সমতার প্রচার সত্ত্বেও এখনও বহু বাড়িতে মেয়েরা ‘ওই সময়ে’ রান্নাঘরে প্রবেশ করতে পারে না, বা ঠাকুরের কাছে যাওয়াও নিষিদ্ধ। অথচ ঋতুস্রাব একটি প্রাকৃতিক এবং শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ‘মমতা শঙ্কর’ (Mamata Shankar) -এর সাম্প্রতিক মন্তব্য এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠেছে! কবে আমরা মানসিকভাবে আধুনিক হব?
পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা নৃত্যশিল্পীর প্রধান বক্তব্যে ছিল, ছেলেকে বা স্বামীকে স্যানিটারি ন্যাপকিন আনার অনুরোধ করা যথেষ্ঠ ‘লজ্জার’। তাঁর এই ব্যক্তিগত মত একাংশের মতে প্রজন্মের ব্যবধানের প্রকাশ, আবার অন্য অংশের মতে এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং পশ্চাৎপদ দৃষ্টিভঙ্গি। এমন একটি সময়, যখন সমাজ সচেতনতা তৈরি করতে প্যাড নিয়ে সিনেমা হয়, তখন একজন সিনিয়র শিল্পীর এমন মন্তব্য ক্ষতি করে সচেতনতার। যদিও তাঁকে আক্রমণ করে অশালীন মন্তব্য করাও সমর্থনযোগ্য নয়!
এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেন অভিনেত্রী-পরিচালক ‘মানসী সিনহা’ (Manasi Sinha)। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি এমন মানসিকতা মানেন না। তাঁর মতে, ঋতুস্রাব নিয়ে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনও বিভাজন থাকা উচিত নয়। তাই তিনি তাঁর যমজ সন্তানদের ছোট থেকেই সেই পরিবেশে মানুষ করেছেন, যেখানে ঋতুস্রাব লুকিয়ে রাখার নয়, বরং স্বাভাবিকভাবে স্বীকার করার বিষয়। তিনি জানান, তাঁর ছেলে পরিবারের মাসিক বাজারে গেলে বোনের ‘প্যাড’ও কিনে নিয়ে আসে স্বাভাবিকভাবে।
এমনকি খেলার সময় যদি তার বোনের পিরিয়ড হয়, তখন সে নিজেই বন্ধুদের সাবধান করে দেয় – যেন বেশি দৌড়ঝাঁপ না করানো হয়। মানসী মনে করেন, ঋতুস্রাব নিয়ে মেয়েরা লজ্জিত হোক – এটা যেমন ভুল, তেমনই ছেলেদের বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই নিজের ছেলেকে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, বোনের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে সমস্ত দিক থেকেই। আর তাতে স্যানিটারি প্যাড কেনার দায়িত্বও পড়ে! মেয়েকে বলেছেন, পিরিয়ড তার জন্য গর্বের, কারণ তার শরীর এখন মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ একি হাল জি বাংলার! টিআরপি তালিকায় মুখ থুবড়ে পড়ল জি! মাথা উঁচু করে সবার শীর্ষে পরশুরাম!
এটা লুকিয়ে রাখার নয়, বরং সম্মানের। তাঁর এই চিন্তাধারা স্পষ্টতই পুরনো প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও আধুনিক। পোশাক সংক্রান্ত বিষয়েও মানসীর বক্তব্য যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছোট পোশাক সব মেয়ের মানায় না – আবার সব ছেলেও সেই পোশাক দেখে অনুচিত আচরণ করে না। তাঁর প্রশ্ন, যদি কেউ বলেন মেয়েরা ছোট জামা পরে বলেই ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ে, তবে জামা ছোট হবার আগেই কি এই দেশে ধর্ষণ হতো না?

