‘আমি মোটেই ভালো মেয়ে নই…’ ‘এসব করে ওর জ্বর চলে এসেছিল কিন্তু আমার…’ স্কুল ফাঁকি দেওয়ার জন্য কি ভয়ংকর কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন মমতা শঙ্কর?

প্রখ্যাত ভারতীয় নৃত্যশিল্পী এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar) বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিংবদন্তি নর্তক উদয় শংকর এবং অমলা শঙ্করের কন্যা হিসেবে তাঁর শিল্পযাত্রার শুরু হলেও, মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে তিনি নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য ক্ল্যাসিক বাংলা ছবিতে তাঁর প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে এই গুণী শিল্পী তাঁর শৈশবের এমন এক মজার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন, যা শুনে হেসে কুপোকাত নেটপাড়া।
শৈশবের দিনগুলোতে পড়াশোনার চাপ আর স্কুল যাওয়ার অনিচ্ছা থেকে মুক্তি পেতে ছোটরা কতই না ফন্দি আঁটে। মমতা শংকরও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, ছোটবেলায় তিনি কোথাও থেকে শুনেছিলেন যে, বগলে থেঁতো করা রসুন নিয়ে রোদে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে নাকি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং জ্বর আসে। স্কুল ফাঁকি দেওয়ার জন্য এই ‘মোক্ষম’ দাওয়াইটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন তিনি এবং তাঁর প্রাণের বন্ধু উমা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা দুজনেই রসুন থেঁতো করে বগলে মেখে কড়া রোদে গিয়ে দাঁড়ান। তাঁদের আশা ছিল, জ্বর এলেই সেই দিনের মতো স্কুলের হাত থেকে মুক্তি মিলবে। এমনকি তাঁরা এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে জ্বর আসবেই, তাই ওই দিনের পড়ার কোনো প্রস্তুতিও তাঁরা নেননি। বড়দের চোখে ধুলো দিয়ে স্কুল না যাওয়ার এই অদ্ভুত কৌশলের পেছনে যে কতটা নিষ্পাপ জেদ ছিল, তা মমতা শঙ্করের বলার ভঙ্গিতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে ভাগ্যের পরিহাসে এই ‘ম্যাজিক ট্রিক’ দুজনের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করেনি। মমতা শংকর জানান যে, তাঁর বন্ধু উমার শরীরে সত্যিই জ্বর চলে আসে এবং সে বাড়িতে থেকে যাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, একই কাজ করেও মমতার শরীরে জ্বরের কোনো লক্ষণই দেখা দেয়নি। ফলে তাঁর স্কুল যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সমস্ত পরিকল্পনা এক নিমেষে ভেস্তে যায়। বন্ধুর জ্বর আসার খবর শুনে তাঁর নিজের তখন কী অবস্থা হয়েছিল, তা আজও তাঁকে হাসিয়ে তোলে।
আরও পড়ুনঃ অন্যায় মেনে নিতে নারাজ কৃশানু! শ্বশুরবাড়িতে পা রাখতেই নিন্দুকদের উচিত জবাব দিল সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
শেষ পর্যন্ত এক বিড়ম্বনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। গায়ে রসুনের কড়া গন্ধ নিয়েই তাঁকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও স্কুলে যেতে হয়। যেহেতু তিনি পড়াশোনা একদমই করেননি, তাই ক্লাসে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে কড়া বকুনিও খেতে হয়। শৈশবের সেই হার না মানা জেদ আর শেষমেশ ধরা পড়ে যাওয়ার এই অম্লমধুর স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন। মমতা শঙ্করের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, খ্যাতনামা তারকাদের শৈশবও সাধারণ মানুষের মতোই হাজারো দুষ্টুমি আর হাসাহাসিতে ভরা থাকে।

