‘ঠাকুরকে দেওয়ার আগে আমি খেয়ে দেখি…’- ফের বিতর্কের মুখে মমতা শংকর! অভিনেত্রীকে নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়!

অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্করকে নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ে না। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বরাবরই আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী। গ্ল্যামার বা আড়ম্বর নয়, বরং সহজ-সরল জীবনই তাঁর কাছে সত্যি। সত্য সাই বাবার ভক্ত হিসেবে তিনি জীবনের পথ খুঁজে পেয়েছেন। তবে যতবারই প্রকাশ্যে খোলামেলা মতামত দিয়েছেন, ততবারই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সম্প্রতি দ্য ওয়াল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, ঠাকুরকে ভোগ দেওয়ার আগে তিনি নিজে ভোগ চেখে দেখেন। তাঁর কথায়, “অনেকে বলে ভোগ চাখতে নেই। কিন্তু আমি নুন-মিষ্টি ঠিক আছে কিনা আগে দেখি। আমার মা-ও করতেন। আমি যখন ছেলেদের ছোটবেলায় খাওয়াতাম, তখনও আগে খেয়ে দেখতাম।” তিনি আরও বলেন, শবরীর কুল আর রামকৃষ্ণের উদাহরণ থেকেই তিনি শিখেছেন, ঠাকুর পরম আত্মীয় হয়ে গেলে আড়াল থাকে না।
এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, ভোগ চেখে দেখা মানেই তা আর পবিত্র থাকছে না। কেউ লিখেছেন, “ভোগে মুখ লাগালে তো সেটা এঁটো হয়ে যায়।” আবার অন্য কেউ বলছেন, “ঠিকই তো বলেছেন, ঠাকুরকে বিস্বাদ খাবার খাওয়ানো কি উচিত?” তবে বিরোধীরা মনে করছেন, মমতার এই ব্যাখ্যা একেবারেই ধর্মীয় শাস্ত্রবিরুদ্ধ।
মমতা অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, যখন কোনও সন্তানকে খাওয়ানো হয়, তখনও তো মা আগে পরীক্ষা করে দেখে। সেই একই অনুভূতি থেকেই তিনি ঠাকুরের ভোগ চেখে নেন। তাঁর মতে, ভক্তি মানে ভয়ের সম্পর্ক নয়, বরং ঘনিষ্ঠতা। যে জিনিস নিজের কাছে সবচেয়ে ভাল লাগে, সেটাই তিনি নিবেদন করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘শুভশ্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য, বিগত চার পাঁচ বছরে আমরা…’- শুভশ্রীর সাথে মনোমালিন্য নিয়ে মুখ খুললেন মিমি চক্রবর্তী!
এর আগেও মমতা নানা মন্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। কখনও মহিলাদের শাড়ি পরা নিয়ে, কখনও স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এবারও তাঁর বক্তব্যে নেটপাড়া দ্বিধাবিভক্ত। একদল সমর্থন করছে, আরেকদল প্রশ্ন তুলছে—মমতার আধ্যাত্মিকতা কি সত্যিই মুক্তচিন্তার প্রকাশ, নাকি কেবল বিতর্ক টানার উপায়?

