‘আজ ভালো তো কাল মন্দ, তাও থামেনি পথচলা!’ ‘কাজ না করে মানুষ থাকে কী করে!’ ‘আমার ভাগ্য ভীষণ ভালো…’ জীবনের চড়াই-উতরাই নিয়ে অকপট মাধবী মুখোপাধ্যায়!

বয়স কেবলই একটা সংখ্যা, আর মনের জোরই যে আসল চালিকাশক্তি তা আবারও প্রমাণ করলেন টলিউডের (Tollywood) অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় (Madhabi Mukherjee)। সম্প্রতি তাঁর আগামী ছবি ‘দূরত্ব’-এর শুটিং ফ্লোর থেকে সামনে এল এক আবেগঘন মুহূর্ত। শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চেনা দুনিয়ায় ফিরেছেন তিনি। শুটিংয়ের ফাঁকেই এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, জীবনের লড়াই এবং পরিবারকে নিয়ে একরাশ ইমোশনাল কথাবার্তা শেয়ার করলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
মাঝেমধ্যেই শরীর খারাপ হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি বারবার সেটে ছুটে আসেন, সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান যে কাজ করাই তাঁর বেঁচে থাকার আসল রসদ। শরীরের অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি হাসিমুখে জানান, ‘সব ভালো মন্দ মিলিয়েই চলছে। আজকে ভালো থাকলে কালকে মন্দ, আবার কাল ভালো তো পরশু মন্দ।’ কিন্তু এই ওঠানামার মধ্যেও যে মনের জোরে তিনি শুটিং ফ্লোরে পা রাখেন, সেই অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর পূর্বসূরিদের দেখে। তাঁদের কষ্ট করার মানসিকতা দেখেই তিনি শিখেছেন যে, পরিস্থিতি বা শরীর যত খারাপই হোক না কেন, কাজের জায়গায় নিজের সেরাটা দিতেই হবে।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক অজানা লড়াইয়ের কথাও এই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন মাধবী দেবী। দেশভাগের যন্ত্রণাময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার সময়ে মাত্র ৪ বছর বয়সে ঘরবাড়ি এবং সমস্ত কিছু হারিয়ে তাঁদের এপাড়ে চলে আসতে হয়েছিল। সেখান থেকে আজকের মাধবী মুখোপাধ্যায় হয়ে ওঠার পেছনে নিজের কোনো কৃতিত্ব নেননি তিনি। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি জানান, এই পুরো কৃতিত্বই তাঁর স্বর্গীয় মায়ের। মায়ের কঠিন লড়াই আর দিদির সহযোগিতাতেই চার বছর বয়স থেকে থিয়েটারের মাধ্যমে যে অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল, তা আজ ৮০ পেরিয়েও একইভাবে সচল রয়েছে।
বাস্তব জীবনের সম্পর্ক এবং একাকীত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক পরম তৃপ্তির সুর শোনা গেল অভিনেত্রীর গলায়। পর্দায় তিনি হয়তো এক অবহেলিত বা একাকী মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন, কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবতী মনে করেন। নিজের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়েই আমাকে ভীষণ আগলে রাখে, আমার ভাগ্য সত্যিই খুব ভালো।’ শুধু মেয়েদের নিয়েই নয়, নিজের দুই জামাইয়ের প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ ছিলেন তিনি। দুই মেয়ে আর দুই জামাইয়ের এমন ভালোবাসা পেয়ে তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত গর্বিত মা এবং শাশুড়ি হিসেবে দাবি করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘এটা শুটিং ফ্লোর নাকি…এসব অসভ্যতা সহ্য করব না!’ ‘যখন যেখানে পারছে মুখের সামনে…’ জুনিয়রদের মধ্যে সভ্যতা ভদ্রতা কোথায়? নাম না করেই আ’ক্রমণ! রাগে ফুঁসে উঠলেন চাঁদনী সাহা!
জীবনের এই সায়াহ্নে এসেও সম্পর্কের ‘দূরত্ব’ তাঁকে কখনো ছুঁতে পারেনি, কারণ তিনি নিজেকে সবসময় কোনো না কোনো কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখেন। ছোটবেলা থেকেই কাজ করাটা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তাই কাজ ছাড়া মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে তা তিনি ভাবতেও পারেন না। সিনেমার পর্দায় মা-মেয়ের দূরত্বের গল্প ফুটিয়ে তুললেও, পর্দার বাইরে তাঁর এই সহজ-সরল জীবনবোধ এবং পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসা সত্যিই বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।

