‘কোর্ট কারও বাবার নয়, ওখানে আইন অনুযায়ী বিচার হবে, ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত দিন!’ মিমিকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে হুঙ্কার তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবীর!

টলিউড (Tollywood) অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর (Mimi Chakraborty) বিরুদ্ধে এবার গুরুতর আইনি পদক্ষেপ নিলেন অনুষ্ঠান আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। সময়মতো অনুষ্ঠানে না পৌঁছানো, চুক্তিমতো পারফর্ম না করা এবং উল্টে আয়োজককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে এই আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরের গত ২৫শে জানুয়ারির সেই রাতে একটি মাচা প্রোগ্রামে পারফর্ম করার কথা ছিল মিমি চক্রবর্তীর। আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি অনুযায়ী, মিমির রাত ৯:৩০টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান অনেক দেরিতে। চুক্তিমতো ১০:৩০টা থেকে তাঁর পারফর্ম করার কথা ছিল, যার বিনিময়ে তিনি ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক অগ্রিম নিয়েছিলেন। আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, মিমি চক্রবর্তী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান রাত ১১:৩৫ মিনিটে এবং মঞ্চে ওঠেন ১১:৪৬ মিনিটে। যেহেতু পুলিশের কাছ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল, তাই আয়োজকরা মিমিকে ১২টার সময় মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ মিনিট পারফর্ম করেই মিমি চক্রবর্তী সেখান থেকে চলে যান এবং পুরো পারিশ্রমিক ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ ও পাল্টা আইনি মোড় সেই রাতে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে মিমি চক্রবর্তী অভিযোগ করেন যে, তাঁকে সেখানে হেনস্থা করা হয়েছে এবং আয়োজক তনয় শাস্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তনয় শাস্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং প্রায় ১০ দিন তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন।
তবে মিমির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ নাটক এবং পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর মতে, ভিডিও টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী মিমি নিজেই দেরিতে এসেছিলেন এবং সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে তনয় শাস্ত্রীকে হেনস্থা করার জন্যই এই মিথ্যে মামলা সাজানো হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘সন্তান তো দুজনেরই, তাই তার দায়িত্বও দুজনকেই নিতে হবে, বিচ্ছেদের পর একলা ফেলে পালালে চলবে না…’ বিচ্ছেদ ও অ্যালিমানি নিয়ে স্পষ্টবক্তা পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়!
তনয় শাস্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি নোটিসে মিমি চক্রবর্তীর কাছে দুটি দাবি রাখা হয়েছে, প্রথমত পারফর্ম না করায় তাঁর নেওয়া ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মানহানি এবং বিনা কারণে জেল খাটানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিমি চক্রবর্তী এই নোটিসের সন্তোষজনক উত্তর না দিলে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোর্ট কারও বাবার নয়, ওখানে আইন অনুযায়ী বিচার হবে’। এই ঘটনায় টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

