রুপোলী পর্দাকে চিরতরে বিদায় জানালেন জগদ্ধাত্রীর মেহেন্দি! মান অভিমান তিক্ততা নিয়ে সরে দাঁড়ালেন ধারাবাহিক থেকে, এই সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন অভিনেত্রী

অভিনয় কেরিয়ারে ইতি টানলেন বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা সঞ্চারী দাস। হ্যাঁ, জগদ্ধাত্রী সিরিয়ালে মেহেন্দির চরিত্রে নজর কেড়েছিলেন সঞ্চারী। তবে মাস কয়েক আগেই এই সিরিয়াল থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। মেহেন্দি চরিত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসাবে সঞ্চারী জানিয়েছিলেন ‘শারীরিক অসুস্থতার’ জেরে এই সিদ্ধান্ত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান তার এলার্জি অ্যাস্থেমা এই সমস্ত কিছু সমস্যা রয়েছে যেটা ওই সময় বেশ বাড়াবাড়ির দিকেই এগিয়েছিল। যার দরুন তিনি তড়িঘড়ি ছেড়ে দেন ধারাবাহিক। কিন্তু আচমকা কেন অভিনয় কেরিয়ারেই ফুলস্টপ দিলেন এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী?

সঞ্চারীর এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা অভিনেত্রীর ভক্তদের কাছে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রতি তাঁর ক্ষোভ, অভিমান রয়েছে। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়, অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তিনি সাক্ষাৎকারে জানান তিনি যেটা চেয়েছিলেন সেটা তিনি এই পেশার মধ্যে দিয়ে পাচ্ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন তার অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে মানুষকে কিছু ভালো অভিজ্ঞতা দিতে। নিজের কাজের জন্য বিন্দুমাত্র স্যাটিস্ফাই ছিলেননা তিনি।
আপতত একদম নতুন রাস্তায় হাঁটছেন সঞ্চারী। তিনি জানান সেই সময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। তার বাড়ি যেহেতু কাজের জায়গা থেকে অনেকটাই দূরে, তাই রোজ যাতায়াত করা সম্ভব ছিল না। তাই পাকাপাকিভাবে বিদায় দিলেন অভিনয় জগতকে। কি জানান তার পরিবারে তাকে সব সময় পড়াশোনা করার জন্য ইনকারেজ করে এসেছে। ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক সঞ্চারী দাস। এরপরই যুক্ত হন ধারাবাহিকের সাথে। আর পড়াশোনা করা হয়নি তার। কিন্তু ছোট থেকেই তিনি চেয়েছিলেন শিক্ষিকা হতে বা এমন কোন কাজ করতে যাতে তার দ্বারা সমাজের কিছু মানুষ ভালো থাকে বা ভালো পথে যায়। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কোথাও গিয়ে সেই বিষয়টা পূর্ণ হচ্ছিল না তার।

সঞ্চারী জানিয়েছেন আপতত তিনি বাড়িতে শিক্ষকতা করছেন। সঞ্চারীর মা এক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, বাবা ডাক্তার। পরিবারের অনেকেই শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। এবার টিউশন পড়াচ্ছেন সঞ্চারী। পাশাপাশি শুরু করেছেন পড়াশোনা। ইংরাজিতে স্নাতক প্রাক্তন অভিনেত্রী, এবার মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন।
‘সর্বমঙ্গলা’র মতো ধারাবাহিকে লিড রোলে অভিনয় করেছেন সঞ্চারী, কাজ করেছেন জি বাংলা অরিজিন্যালসের অসংখ্য প্রোজেক্টে। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে আপতত পড়াশোনা আর শিক্ষকতা নিয়েই থাকতে চান। ভবিষ্যতে অন্যকোনও চাকরিতে যোগদানের ইচ্ছা রয়েছে, তবে অভিনয়ে আর ফিরবেন না।

