‘এইটুকু লোভী হলে ক্ষতি নেই…’, ‘আমি অন্য শিল্পীর গান শুনি না, কারণ…’ ‘তখন টাকা পয়সা ছিল না তখন…’ ‘আমি সবার বন্ধু হতে চাই না!’ সাদামাটা জীবনে বিশ্বাসী লগ্নজিতা! নিজের জীবনটা কিভাবে গুছিয়ে নিয়েছেন গায়িকা?

বাংলা গানের জগতে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, মেলোডিয়াস গায়কি এবং সংবেদনশীল পরিবেশনার জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন জনপ্রিয় গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী (Lagnajita Chakraborty)। একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তিনি। তবে শুধু গান নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বরাবরই সাদামাটা জীবনযাপন, স্পষ্ট মতামত এবং নিজের মতো করে বাঁচার দর্শনেই বিশ্বাসী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আড্ডায় উঠে এল তাঁর জীবনের নানা অজানা কথা।
ভালো গান শুনলে সেই শিল্পীকে ফোন করে প্রশংসা জানাতে এক মুহূর্তও দেরি করেন না লগ্নজিতা। তবে সেই সঙ্গে নিজের মনের কথাটাও অকপটে বলে দেন। গায়িকার কথায়, “যখনই কারোর গান শুনি তাকে ফোন করে অবশ্যই বলি ভালো হয়েছে। কিন্তু তারপর এটাও বলি যে এই গানটা আমি করতে পারলে খুশি হতাম। আমার মনে হয় এটুকু লোভী হওয়ায় কোন দোষ নেই। আমি তো আর চুরি ডাকাতি করছি না। কোন অন্যায়ও করছি না। গায়িকা হিসেবে ইচ্ছে থাকতেই পারে যে ওই গানটা আমি করব। তবে সব সময় ভাগ্য সহায় হয় না।”
বন্ধুত্ব নিয়েও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই স্পষ্ট। সকলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলেও সবাইকে বন্ধু বানানোর পক্ষপাতী নন তিনি। লগ্নজিতা বলেন, “আমি সবাইকে বন্ধু বানাতে পারি না। আমি সবার বন্ধু হতে চাই না এবং এটাও চাই না যে প্রত্যেকে আমার বন্ধু হোক। হ্যাঁ ভালোভাবে চলতে গেলে একসঙ্গে থাকতে গেলে যেটুকু সৌজন্যতা থাকা প্রয়োজন আমি সেটুকু অবশ্যই রাখি কারণ আমি জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি, সেই গুণটা আমার মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই বলে আমি সবার সঙ্গে মিলেমিশে বন্ধু হয়ে যেতে পারি না।”
জীবনের চাওয়া-পাওয়াও সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলে যায়, সেই কথাও তুলে ধরেন গায়িকা। তাঁর কথায়, “ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল আমি একটু টাকা পয়সা কামাবো। কিন্তু টাকা পয়সা কামিয়ে যেগুলো করব ভেবেছিলাম সেগুলো আর করা হয়ে ওঠেনি। যখন টাকা-পয়সা ছিল না তখন ভাবতাম টাকা হলে একটা গাড়ি কিনব। কিন্তু যখন টাকা পয়সা এসেছে তখন আর গাড়ি কিনতে ইচ্ছা হয়নি। আমি এরকমই।”
পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নিয়েও মুখ খুলেছেন লগ্নজিতা। তিনি বলেন, “সৃজিত দার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের, প্রায় ১৪ বছরের। ওনার সঙ্গে আমার ভীষণ ঝামেলা হয়। কিন্তু ঝামেলার সঙ্গে বন্ধুত্বটা অটুট রয়েছে। যেমন ঝামেলা হয় তেমন একে অপরের অনেক কিছুই আমরা জানি। আমাদের মধ্যে অনেক আড্ডা হয়, কথাবার্তা হয়। ওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্কটা আলাদা জায়গায়।”
গানই তাঁর জীবন, অথচ অন্য শিল্পীদের গান খুব বেশি শোনেন না লগ্নজিতা। এর পিছনেও রয়েছে তাঁর নিজস্ব যুক্তি। গায়িকা বলেন, “আমার বাড়িতে সারাক্ষণ গান চলে। বা বলা ভালো ইন্সট্রুমেন্টাল চলে। আমি মানুষের গান খুব একটা শুনি না। আমাকে অনেকেই বলেন যদি না আমি অন্যের গান শুনি তাহলে আমি নিজের ভুলগুলো আইডেন্টিফাই করব কী করে? আমি এই উপদেশ মেনে অন্যের গান শোনার চেষ্টা করি ঠিকই, কিন্তু আমার শুনতে খুব একটা ভালো লাগে না। আমি সারাদিন ইন্সট্রুমেন্টাল শুনি। অন্যের গান শুনলে আমি ওই গানের মধ্যেই হারিয়ে যাই। তখন আমার আর কোনও কাজ করার কথাই মনে থাকে না। মনে হয় যেন আমি একটা গানের ক্লাসে আছি।”
আরও পড়ুনঃ বিতর্কিত জীবনে নতুন বিতর্ক! ‘বাংলা বিগবস’-এ থাকছেন দেবলীনা নন্দী? দর্শকদের চমকে দিয়ে কি জানালেন গায়িকা?
স্পষ্ট কথা বলতে কখনও পিছপা হন না লগ্নজিতা চক্রবর্তী। ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, অর্থ, বন্ধুত্ব কিংবা গান, প্রতিটি বিষয়েই নিজের ভাবনা অকপটে প্রকাশ করেছেন তিনি। আর সেই সরল, সৎ এবং বাস্তববাদী মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

