‘একজন মানুষ আর একজন মানুষকে এতটা ঠকাতে পারে?’ ‘ওর বাড়ি গিয়ে আমি ওকে অন্য মেয়ের সঙ্গে…’ ভালোবেসে চরম প্রতারণা! বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়!

কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Koneenica Banerjee) টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান একজন অভিনেত্রী। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন। ‘অন্দরমহল’, ‘আয় তবে সহচরী’-র মতো জনপ্রিয় সিরিয়াল, কিংবা ‘পোস্ত’, ‘হামি’, ‘টনিক’-এর মতো সুপারহিট চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। পেশাগত জীবনে সাফল্য পেলেও, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০১৭ সালে তিনি সুরজিৎ হরিকে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তিনি তাঁদের কন্যাসন্তান ও পরিবার নিয়ে সুখে সংসার করছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর অতীতের এক কঠিন ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন।

সম্প্রতি পডকাস্টের একটি বিশেষ পর্বে অভিনেত্রী তাঁর জীবনের এক চরম বিশ্বাসের মর্যাদা ভঙ্গের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তিনি এমন এক মানুষের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যিনি তাঁকে সম্পূর্ণভাবে ঠকিয়েছিলেন। কনীনিকার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই বিশেষ সম্পর্কটিতে তিনি শুধু নিজের মূল্যবান সময়ই দেননি, বরং বিপুল অর্থ এবং মানসিক আবেগও বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বিনিময়ে তাঁর ভাগ্যে জুটেছিল কেবলই প্রতারণা। একটি মানুষের পক্ষে যে অন্য একজন মানুষকে এভাবে ঠকাতে পারে, তা তখনকার পরিস্থিতিতে তাঁর কল্পনারও বাইরে ছিল। এই ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল।

পডকাস্টের এই অংশে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় এবং পরবর্তী সময়ে সুরজিতের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করতে পারি না একজন মানুষ একজন মানুষকে এতটা ঠকাতে পারে বাবা, হতে পারে ইনভেস্টেড নট অনলি টাইম, মানি, এনার্জি…রিলেশনশিপে একদম এঙ্গেজমেন্টের আগে একই জিনিস… ইউনিভার্স তোমাকে এটা দেখালো। আমার যার সাথে এখন বিয়ে হয়েছে আমি তার কাছে গ্রেটফুল ম্যান। অলমোস্ট হাইজ্যাক করা বলে না? হাইজ্যাক করে প্রায় বিয়ে করেছে সুরজিৎ। আমরা তিন মাস ডেট করিনি এবং তার মধ্যেই ও আমাকে সেকেন্ড ডেটে বিয়ে প্রপোজ করে। আমিও ওকে বিয়ে করতে তৈরি হই কারণ আমার মা বাবা পাগল করে দিয়েছিল। আমি খালি পড়ে যাচ্ছি, আমি তো আর বিয়ে করব না। এতটাই মিসট্রাস্ট হয়ে গেছে, হ্যাঁ মানে আমার মনে হতো বাবা ছেলে মানেই গন্ডগোল, আবার ঝামেলা, প্রেম তো নয় আর।’

সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতে একেবারে এনগেজমেন্ট বা বাগদানের দোরগোড়ায় এসেও তাঁকে একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পর পর এই ধরনের ঘটনা ঘটার ফলে ছেলেদের প্রতি তাঁর মনে এক চরম অনীহা ও তীব্র অবিশ্বাসের জন্ম নেয়। তিনি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর মনে হতো ছেলেদের সঙ্গে জড়ানো মানেই কেবল নতুন কোনো গন্ডগোল বা অশান্তির সূত্রপাত। প্রেম-ভালোবাসার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলায় তিনি আর কখনোই বিয়ের পিঁড়িতে না বসার একপ্রকার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। ওদিকে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁর বাবা-মাও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ করেই অন্তঃসত্ত্বা পারুল! নাতি নাত বউয়ের কান্ড দেখে অবাক দাদু! সুখবর শুনেই রায়ানকে ধরে গণধোলাই! প্রকাশ্যে পরিণীতার দুর্ধর্ষ প্রোমো!

অভিনেত্রীর জীবনের এই চরম হতাশা ও অবিশ্বাসের আবহেই প্রবেশ ঘটে সুরজিতের, যিনি বর্তমানে কনীনিকার স্বামী। সাক্ষাৎকারের কথা অনুযায়ী, সুরজিৎ যেন একপ্রকার ‘হাইজ্যাক’ করেই কনীনিকাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে আপন করে নেন। তাঁরা দুজনে মাত্র তিন মাসও ঠিকমতো ডেট করেননি, অথচ তাঁদের পরিচয়ের দ্বিতীয় দিনেই সুরজিৎ সরাসরি কনীনিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। অতীতের ধাক্কা সামলে সুরজিতের এই চটজলদি বিয়ের প্রস্তাবে কনীনিকা রাজি হন এবং আজ তিনি তাঁর এই স্বামীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এইভাবেই অতীতের সমস্ত তিক্ততা ও প্রতারণার গণ্ডি পেরিয়ে কনীনিকা তাঁর জীবনে একটি সুন্দর ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পেরেছেন।

Back to top button