‘সারা বছর টাকা জমিয়ে মা পয়লা বৈশাখে জামা কিনে দিত…’ শত অভাবের মাঝেও মায়ের আঁচলেই মিলেছে শান্তি! আবেগপ্রবণ সায়ক চক্রবর্তী!

টেলিভিশনের পর্দার (Television Screen) জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই টেলিভিশন জগতে (Television Industry) বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে এসেছেন সায়ক। বিভিন্ন জনপ্রিয় ধারাবাহিকের পার্শ্ব চরিত্রে আমরা সায়ক কে দেখতে পেয়েছি। বর্তমানে ধারাবাহিক জগতে তাকে খুব একটা দেখা না গেলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে কিন্তু দারুণ সক্রিয় থাকেন অভিনেতা।
ইউটিউবে তার নিজস্ব একটি চ্যানেল রয়েছে। সেখান থেকে নিত্যদিনের ভ্লগ ভিডিও আপলোড করে থাকেন অভিনেতা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নেটিজেন এবং তার ফ্যানের সঙ্গে সব সময় সংস্পর্শে থাকেন সায়ক। বর্তমানে তো সায়ককে দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার নতুন শুরু হওয়ার ধারাবাহিক চিরসখাতে অভিনয় করতে। বহু বছর বাদে নতুন ধারাবাহিকের হাত ধরে পর্দায় ফিরছেন তিনি।
আগামীকালই নববর্ষ, মানে পয়লা বৈশাখ। আর পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন জামা কাপড় কেনা, খাওয়া দাওয়া, জমিয়ে আড্ডা, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া কত কি। বাকি সবার মত এ বছর পয়লা বৈশাখে সায়কেরও বিশেষ কিছু প্ল্যান রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, ‘এবছরের পয়লা বৈশাখটা আমার কাছে অনেকটা আলাদা, পাশাপাশি খুব বিশেষও বটে। এই প্রথমবার আমি একটা দোকান উদ্বোধন করব। আগে এমনটা কখনও হয়নি। কাঁচরাপাড়ায় এই অনুষ্ঠানটা রয়েছে। তারপর সেখান থেকে ফিরে দুপুরবেলা একটু বাঙালি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে। তবে বাড়িতে নয়। মা নিরামিষটা বড় ভালো রাঁধলেও আমিষটা খুব একটা জমাতে পারেন না। আর আমার মা আবার বাঙালি খাবার খেতেও খুব ভালোবাসেন, তাই মাকে নিয়ে বাঙালি রেস্তোরাঁতেই দুপুরের ভোজটা সারব।’
অভিনেতা আরো বলেন, ‘আসলে মাকে ছাড়া নববর্ষ কেন, কোনও উদযাপনই ভাবতে পারি না। একটা সময় ছিল যখন মা সারা বছর ধরে কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে গরমের সময় বাড়িতে যে ধরনের পাতলা পাতলা জামা পরতে পছন্দ করি, সেগুলো কিনে আনতেন। সেগুলোর মধ্যে অনেকটা ভালোবাসা লেগে থাকত। প্রতিবছর ঠিক মনে করে মা আমাকে পয়লা বৈশাখের আগে এই আনন্দে মাখা পোশাকগুলো দিত। এখন আর দেন না, মায়ের কাছে টাকা থাকলেও দেন না (মজার ছলে)। এখন উল্টোটা হয়। আমি মাকে উপহার দিই। এখন আমি নিজের জন্যও শপিং করি, আর সঙ্গে মায়ের জন্য তো বটেই। কিন্তু মায়ের ওই টাকা জমিয়ে জামা কেনার মধ্যে একটা আলাদা ভালোলাগা ছিল। ওই বিষয়টা আমি বড্ড মিস করি। ছোটবেলার এই স্মৃতিটা খুব টাটকা। নববর্ষ এলেই আমি যেন ওই সময়টাই ফিরে যাই।’
আরও পড়ুনঃ কেন ‘ভালোবাসা ডট কম’-এর ‘তোড়া’ হঠাৎ ছোটপর্দা থেকে হারিয়ে গেলেন! কাজের ডাক পেয়েও ফিরলেন না মধুবনী! এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?
‘এবার পয়লা বৈশাখটা খুব বিশেষ, সেটার আর একটা কারণ হল মায়ের নববর্ষের সাজ। যদিও ইতিমধ্যেই মা-কে প্রচুর শাড়ি কিনে দিয়েছি। কিছু দিন আগেই আমি শান্তিপুর গিয়েছিলাম, সেখান থেকে অনেকগুলো শাড়ি কিনে এনেছিলাম। তবে সবগুলোর মধ্যে মায়ের জন্য আনা বিশেষ ধরনের একটা পোশাক এবারের আকর্ষণ। মাকে এবার সেই ভাবেই সাজাবো। পোশাক মানে এটা নয় যে, অন্য ধরনের কিছু। সেটা আসলে শাড়িই। তবে আমাদের চিরাচরিত শাড়ির থেকে একটু আলাদা। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন শাড়ি পাওয়া যায়, তেমনটা। এগুলোয় আলাদা করে কুচি দিয়ে পরতে হয় না। সবটাই তৈরি করা থাকে। শুধু পরে নিতে হয়। মানে রেডিমেড শাড়ি বলা যেতে পারে। তবে তাতে বাঙালিআনার কোনও খামতি নেই। এবার এই ইন্দো-ওয়েস্টার্ন শাড়িতেই পয়লা বৈশাখে মা-কে সাজাবো। তবে আমার কাছে ছোটবেলার নববর্ষ মানে শুধু মায়ের দেওয়া নতুন জামা নয়। আমার কাছে নববর্ষ মানে রঙিন রিঙিন ক্যালেন্ডারও। ছোটবেলায় হালখাতা করার মতো টাকা-পয়সা ছিল না। তবে সব দোকানে দোকানে যেতাম। এবারে মাকে সেই সবকিছু ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।’

